ইব্রাহিম এর বাংলা ব্লগ www.jahangir-any.blogspot.com এ স্বাগতম • www.jahangir-any.blogspot.com এ যে কোন মতামত পাঠানোর জন্য ব্যবহার করুন ibrahim.ali718@gmail.com / ebraim.ali97@yahoo.com এই ই-মেইল ঠিকানা • মোবাইল : +8801744603053•
আল্লাহ তায়লা যখন মাসুষ সৃষ্টি করার ইচ্ছা পোষন করলেন । তখন তিনি ফিরিস্তাদের সাথে আলাপ করেন এবং তাদের কে বলেন যে, আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করব। তখন তারা বলে যে, আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করতে চাগ্ছেন যারা পূবের জীন জাতির মত মারামারি, কাটাকাটি, খুন জখমের মত ভয়ানক কাজ করবে। তখন আল্লাহ তাদের উত্তরে বলেন নিশ্চয় আমি যাহা জানি তোমরা তাহা জাননা । (সুরা আল বাকারা)।

আল্লাহ তায়লা যখন মানুষ সৃষ্টি করার ইচ্ছা পোষন করেন, মানুষের সেবার জন্য তিনি চিন্তা করলেন আরো অন্যান্য প্রাণির তার মধে্য বলদ গরু কে ষৃষ্টি করলেন এবং তাকে বললেন যে, তোমাকে মানুষ সেবার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে । তখন বলদ বলল আমাকে সেখানে তাদের কে কি ভাবে সেবা করতে হবে এবং কতদিন পৃথিবীতে অবস্থান করতে হবে। তখন আল্লাহ তাদের উত্তরে বলেন, তোমার কাজ থাকবে হাল চাষ করা এবং তুমি যথন বুড়ো হয়ে যাবে তখন তোমাকে তারা জবাই করে খাবে । আর তোমার গড় আয়ু থাকবে ৪০ বছর । তখন বলদ প্রাথরনা করল যে,আমার এতদিন এ ভাবে থাকা সম্ভব হবে না । আপনি আমার হায়াত আরো কমিয়ে দেন। তখন আল্লাহ এ ভাবে তার হায়াত ২০ বছর ঠিক করল মানুষ সেবার জন্য ।

এর পর আল্লাহ তায়লা কুকুর তৈরি করলেন, এবং তাকে  বললেন যে, তোমাকে মানুষ সেবার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে । তখন কুকুর বলল আমাকে সেখানে তাদের কে কি ভাবে সেবা করতে হবে এবং কতদিন পৃথিবীতে অবস্থান করতে হবে। তখন আল্লাহ তাদের উত্তরে বলেন, তোমার কাজ থাকবে সেখানে গিযে মানুষের বাড়ি পাহারা দেয়া এবং তোমার থাবার থাকবে তারা যে সব খেয়ে যেসব ঝুটা থাকবে সেগুলো । আর এভাবে তোমাকে ৪০ বছর থাকতে হবে। তখন কুকুর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করল যে, আমার দ্বারা এভাবে এতদিন থাকা সম্ভব নয়। আমার হায়াত কমিয়ে দিন। এভাবে করে কুকুর এর হায়াত ২০ বছরে এসে পৌছালো।

এর পর আল্লাহ হায়লা পেচা এর পর আল্লাহ তায়লা কুকুর তৈরি করলেন, এবং তাকে  বললেন যে, তোমাকে মানুষ সেবার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে । তখন পেচা বলল আমাকে সেখানে তাদের কে কি ভাবে সেবা করতে হবে এবং কতদিন পৃথিবীতে অবস্থান করতে হবে। তখন আল্লাহ তাদের উত্তরে বলেন, তোমার কাজ থাকবে সেখানে গিযে তুমি গাছের গর্তের মধে্য বাস করবে এবং রাতে আমার বান্দাদের ডাকবে এবং আমার জিকিরের কথা স্মরন করিয়ে দেবে। আর তুমি সেখানে থাকবে ৪০ বছর । তখন পেচা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করল যে, আমার দ্বারা এভাবে এতদিন থাকা সম্ভব নয়। আমার হায়াত কমিয়ে দিন। এভাবে করে পেচা এর হায়াত ২০ বছরে এসে পৌছালো।

তখন তিনি আদম কে সৃষ্টি করলেন এবং বললের তোমাকে পৃথিবীতে আমি প্রতিনিধি হিসেবে করেছি এবং তোমাকে সেখানে থাকতে হবে এবং আমার ইবাদত করতে । আর তোমার হায়াত থাকবে ৪০ বছর । তখন আদম তার প্রতি উত্তরে বললেন, যে, হে মাবুদ এটুকু হায়াদ দিয়ে তো আমার পৃথিবীতে যেতে আর আসতে সময় শেষ হয়ে যাবে । আমার আরো হায়াত বাড়িয়ে দিন। তখন আল্লাহ বলদ, কুকুর,আর পেচা এর হায়াত ২০+২০+২০= ৬০ যুক্ত করে এবং আদমের হায়াত ৪০ যুক্ত করে ১০০ বছর করেন।

এতে প্রতিয়মার হয় যে,মানুষ আল্লাহর দেয়া হায়াত ৪০ বছরে খুব সুন্দর জীবন যাপন করে। আর বলদ এর হায়াত যখন এসে যায় তখন মানুষের ছেলে মেয়ে সন্তান হয় তখন মানুস কে বলদের মত খাটতে হয়। আর যখন ৬০ বছর অতিক্রম হয় তখন মানুষকে কুকুর মত বাড়ি পাহারা দেয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় থাকে না। আর যখন ৮০ বছর অতিক্রম হয় তখন পেচার মত ঘরে বসে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতে হয়।

বিঃ দ্রঃ এ গল্প টি আমার চাচার কাছে শুনেছি এটা কতটা সঠিক আমি বলতে পারবনা। আর ভূল হলে আল্লাহ আমায় মাফ করুক। (আমিন)

৪৪. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- নিশ্চয় বিশ্বাসী মু’মিন বান্দা আল্লাহকে ডাকে, অনন্তর আল্লাহ্‌ তা পছন্দ করেন। অতঃপর তিনি বলেন, “হে জিবরাঈ’ল আমার (মুমিন) বান্দার এ প্রয়োজন পূরণ কর এবং তা সাময়িক রেখে পেছনে ফেল, কারণ আমি তার কন্ঠস্বর শুনতে ভালবাসি।” আর নিশ্চয় (গুনাহগার) বান্দা আল্লাহকে ডাকে কিন্তু আল্লাহ্‌ তা ঘৃণা করেন। অতঃপর মহান আল্লাহ্‌ বলেন.“হে জিবরাঈ’ল আমার বান্দার প্রয়োজন পূরণ কর এবং তার জন্য তা জলদি কর। কারণ, আমি তার কন্ঠস্বর শুনতে ভালবাসি না।”
ইবনু আসাকির এ হাদীসটি আনাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
৪৫. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- নিশ্চয়ই জিবরাঈ’ল (আ) আদমের প্রয়োজন মেটানোর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন। অতঃপর কোন অবিশ্বাসী বান্দা যখন দু’আ করে তখন মহান আল্লাহ বলেন, “হে জিবরাঈল! তার প্রয়োজন পূরণ করে দাও। আমি তার দু’আ শুনতে চাই না।” আর কোন মু’মিন বান্দা যখন দু’আ করে তখন আল্লাহ্‌ বলেন, “হে জিবরাঈল! তার প্রয়োজন স্থগিত রাখ, কারণ আমি তার আহবান শুনতে পছন্দ করি।”
ইবনুন নাজ্জার এ হাদিসটি হযরত জাবির (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
৪৬. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ্‌ বলেন, “আমার প্রতি বান্দার যে ধারণা রয়েছে আমি তার সাথে থাকি। সে যখন আমাকে স্মরণ করে আমি তখন তার সাথেই থাকি।” রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “আল্লাহর কসম! তোমাদের তওবা করায় আল্লাহ্‌ সেরূপ আনন্দিত হন, মরুভূমিতে হারিয়ে হারিয়ে যাওয়া প্রাণী খুজে পেলে তোমরা যেরূপ আনন্দিত হও। আমার দিকে যে এক বিঘত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। আমার দিকে সে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক গজ অগ্রসর হই; আর সে যখন আমার দিকে পায়দলে অগ্রসর হয়, আমি তখন দ্রুতবেগে তার দিকে অগ্রসর হই।”
মুসলিম এ হাদিসটি হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
৪৭. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ্‌ এক বান্দাকে দোযখে প্রবেশ করানোর আদেশ দেবেন। সে যখন দোযখের প্রান্তদেশে উপনীত হবে, তখন পিছু ফিরে তাকবে এবং বলবে, “আল্লাহর কসম! ‘হে প্রতিপালক! তোমার সম্পর্কে আমার কি ভাল ধারণা ছিল না? তখন মহান প্রতাপশালী আল্লাহর বলবেন, “তাকে ফিরিয়ে আন। কারণ, আমি আমার বান্দার ধারণার সাথে অবস্থান করি।” আল্লাহ্‌ তাকে ক্ষমা করে দেবেন।
বায়হাকী এ হাদীসটি হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
৪৮. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান আল্লাহ্‌ বলেছেন, “ওহে আমার বান্দা! আমার সম্পর্কে তোমার ধারণার সাথে আমি আছি। তুমি যখন আমার আহবান কর, আমি তখন তোমার সাথে থাকি।”
৪৯. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান আল্লাহ বলেছেন, “আমার সম্পর্কে বান্দাদের ধারণার সাথে আমি আছি। কেউ যদি সুধারণা পোষণ কর, তবে তার জন্য তা কল্যাণকর। আর যদি সে খারাপ ধারণা পোষণ করে, তবে তার জন্য তা কল্যাণকর।”
তিবরানী এ হাদিসটি হযরত ওয়াসিল (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
৫০. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান ও পরাক্রান্ত আল্লাহ্‌ বলেন, “আমি আমার প্রতি আমার বান্দার ধারণার সাথে আছি। আর আমাকে যখন সে স্মরণ করে, আমি তখন তার সাথেই অবস্থান করি। সে যদি আমায় মনে মনে স্মরণ করে, আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করি। সে যদি আমাকে কোন এক সম্প্রদায়ের মধ্যে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে ওর চেয়েও উৎকৃষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে স্মরণ করি। সে যদি আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তার দিকে আমি একহাত অগ্রসর হই। সে যদি আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, তবে তার দিকে আমি এক গজ অগ্রসর হই। আর সে যদি আমার দিকে পায়দলে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে আগাই।
আহমদ ও শায়খইন এ হাদীসটি আবূ হুরায়রা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
৫১. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান ও মর্যাদাশালী আল্লাহ্‌ বলেছেন, “আমার সম্পর্কে আমার বান্দার ধারণার সাথে আমি আছি। সে যদি আমার প্রতি সুধারণা পোষণ করে তবে তা তারই সাথে থাকবে, আর যদি সে খারাপ ধারণা পোষণ করে, তবেও তা তারই সাথে থাকবে।
আহমদ এ হাদিসটি হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
৫২. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- কোন বান্দাই শুধু তিনবার ‘হে প্রভূ’ বলে না; বরং সুমহান আল্লাহ্‌ বলেন, “ও হে বান্দা! আমি উপস্থিত আছি।” অনন্তর তিনি যা ইচ্ছে তাড়াতাড়ি করেন এবং যা ইচ্ছে বিলম্বিত করেন।
দায়লামী এ হাদীসটি হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
৫৩ . রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান ও পরাক্রমশীল আল্লাহ্‌ বলেছেন, “আমার কোন বান্দা অন্য কোন প্রিয়বস্তু দ্বারা আমার নিকট প্রিয় হয় না যে পর্যন্ত সে আমি তার প্রতি যা ফরজ করেছি, তা আদায় না করে।”
খাতীব এ হাদীসটি আলী (রাঃ থেকে সংগ্রহ করেছেন।

কৃতজ্ঞ ও অকৃতজ্ঞঃ

Posted on ৮:১৪ PM

৪৩. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান আল্লাহ্‌ বলেছেন, “ও হে আদম সন্তান। যতক্ষণ তুমি আমায় স্মরণ কর ততক্ষণই তুমি আমার শুকরিয়া আদায় কর। আর যতক্ষণ তুমি আমাকে বিস্মৃত থাক ততক্ষণ তুমি আমার প্রতি নাশুকর থাক।”
ইবন্‌ শাহীন এ হাদীসটি হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।


৫. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ্‌ বলেছেন, “নিশ্চয়ই আমি এবং জিন ও মানব জাতি এক মহাপরিস্থিতিতে অবস্থান করছি। তাদেরকে আমি সৃষ্টি করি, আর তারা অন্যের উপাসনা করে, তাদেরকে আমি জিবিকা দেই, আর তারা অন্যের শুকরিয়া জ্ঞাপন করে।”
এ হাদীসটি হযরত আবুদ দারদ (রা) থেকে হাকেম ও তিরমিযী সংগ্রহ করেছেন।
৬. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- তোমাদের প্রভূ বলেছেন, “সকলে আমাকেই ভয় করবে। কারণ, আমিই এর যোগ্য; এতএব আমার সাথে আর কাউকেও যেন উপাস্য স্থির করা না হয়। অনন্তর যে আমার সাথে আর কাউকেও উপাস্য স্থির করবে না, তাকে আমি ক্ষমা করে দেয়া কর্তব্য মনে করি।”
আহমদ ও তিরমিযী এ হাদীসটি হযরত আনাস (রাঃ) থেকে সংগ্রহ করেছেন।
৭. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, “আমার বান্দারা যদি পুরোপুরি আমার অনুগত হত, তবে নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে রাতে বৃষ্টিদান করতাম, তাদের জন্য দিনে রোদ উঠাতা এবং তাদেরকে বজ্র ধ্বনি শুনাতাম না।”
আহমদ ও হাকেম এ হাদীসটি হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم “كُلُّ سُلَامَى مِنْ النَّاسِ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ، كُلَّ يَوْمٍ تَطْلُعُ فِيهِ الشَّمْسُ تَعْدِلُ بَيْنَ اثْنَيْنِ صَدَقَةٌ، وَتُعِينُ الرَّجُلَ فِي دَابَّتِهِ فَتَحْمِلُهُ عَلَيْهَا أَوْ تَرْفَعُ لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ، وَالْكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ، وَبِكُلِّ خُطْوَةٍ تَمْشِيهَا إلَى الصَّلَاةِ صَدَقَةٌ، وَتُمِيطُ الْأَذَى عَنْ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ”. [رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ: 2989، وَمُسْلِمٌ: 1009] আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেহ যখন সূর্য উঠে মানুষের (শরীরের) প্রত্যেক গ্রন্থির সাদকাহ্ দেয়া অবশ্য কর্তব্য। দু’জন মানুষের মাঝে ইনসাফ দেয়া হচ্ছে সাদকাহ্, কোন আরোহীকে তার বাহনের উপর আরোহন করতে বা তার উপর বোঝা উঠাতে সাহায্য করা হচ্ছে সাদকাহ্, ভাল কথা হচ্ছে সাদকাহ্, সালাতের জন্য প্রত্যেক পদক্ষেপ হচ্ছে সাদকাহ্ এবং কষ্টদায়ক জিনিস রাস্তা থেকে সরানো হচ্ছে সাদকাহ্।” [বুখারী: ২৯৮৯, মুসলিম: ১০০৯]

عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: “…….لو يعلمون ما في التهجير لاستبقوا إليه……”  [رواه البخاري: 615 ومسلم: 981] 
 
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আর তারা যদি জানতো অগ্রিম নামাযে আসার ফযীলত কত বেশী, তাহলে অবশ্যই তারা আগেই (নামাযের জন্য) আসতো।” [বুখারী: ৬১৫, মুসলিম: ৯৮১]




عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: أَشْرَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أُطُمٍ مِنْ آطَامِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ هَلْ تَرَوْنَ مَا أَرَى قَالُوا لَا قَالَ فَإِنِّي لَأَرَى الْفِتَنَ تَقَعُ خِلَالَ بُيُوتِكُمْ كَوَقْعِ الْقَطْرِ . [رواه البخاري: 21/450 كباب الفتن, باب- قول النبي ويل للعرب]

ওসামা বিন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা মদীনার টিলাসমূহের মধ্যে কোন একটি টিলার উপর আরোহন করে বললেন: আমি যা দেখছি, তোমরা কি তা দেখছো? (সাহাবাগণ) বললেন: না। তিনি বললেন: আমি তোমাদের ঘরসমূহে ফেৎনা বৃষ্টির ফোঁটার ন্যায় পতিত হতে দেখছি। [বুখারী: ২১/৪৫০, কিতাবুল ফিতান, বাব- কাওলুন নবী ওয়াইলুন লিল আরব।

গুগলের সব

Posted on ১০:৪৫ AM
ইন্টারনেট জগতে প্রথম থেকেই গুগলের সব স্তরেই জয়জয়কার! এবার নতুন জয়যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে সম্প্রতি তাদের প্রথম সারির সকল সেবা যেমনঃ ইউটিউব, জিমেইল, গুগল ম্যাপ, গুগল প্লাস এবং এন্ডয়েড ফোনের বাজারের বিরাজমান সফলতাকে নিয়ে।
তাদের গতি ধারা অনুযায়ী বলা চলে, যে হারে প্রতি নিয়তই গুগলের প্রতিটি সেবা তাদের ভোক্তাদের নজর কাড়ছে এরই সুযোগ নিয়ে তারা নতুন পলিসি তৈরী করছে। সেটা কি হতে পারে তা এখনই বলা না গেলেই ধরনা করা হচ্ছে, ইউজারদের ডাটা থেকে প্রাপ্ত সকল ট্রেন্ডগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য তারা হয়তো নতুন সেবামূলক কোন কিছু চালু করবে নয়তো ইউজারেদের ট্রেন্ডকে কেন্দ্র করে এডসন্সের চেয়ে ভিন্নধর্মী নতুন বিজ্ঞাপন মাধ্যম চালু করবে।

কিন্তু তাতে কি পরিমাণ সফলতা বা ব্যর্থতা হতে পারে তা এখনই বলা না গেলেই একটু সন্দেহ চলে আসে গুগল কি তার উইজারদের ব্যক্তিগত ডাটাকে ব্যবহার করতে পারে।

মস্তিস্কের স্মৃতিচারণ

Posted on ১০:২৭ AM
আমাদের মস্তিস্ক আমাদের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। যা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে যাওয়া সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার মূহর্ত গুলোকে ভিডিও ক্যামেরার মত সংরক্ষণ করে রাখে। আবার আমরা চাইলেই মনের মুক্ত ক্যানভাসে মূহর্ত গুলোকে ফিরিয়ে আনতে পারি আর এই প্রক্রিয়াটিই হচ্ছে স্মৃতিচারণ।

আমার এক বন্ধু, তার নামটা এখন আমার ঠিক মনে নেই, সে ভাল কবিতা লিখতে পারত, দু একদিন আমাকেও পড়ে শুনিয়েছে। তার নিজের লেখা কোন একটা কবিতার দুটো লাইন হঠাৎ মনে পরে গেলো……..

“স্মৃতি তুমি গুপ্ত মনে সুপ্ত ব্যাথার সাড়া

ফেলে আসা দিন গুলোকে বাড়ে বাড়ে দাও নাড়া”

আসলে ঠিক তাই, ফেলে আসা দিনের মধুর স্মৃতি গুলোকে মনে করে আমরা অনন্দ পাই, আবার দুঃখের স্মৃতি গুলোও মাঝে মাঝে আমাদের নাড়া দিয়ে যায়, ব্যাথিত করে মনকে।

আমরা দুজন একই সাথে HSC তে একই কলেজে পড়েছিলাম, সে এখন ঠিক কোথায় আছে কি করছে তা আমার জানা নেই। আবার আমার বিষয়েও সে কিছু জানে না অর্থাৎ তার সাথে আমার আবার পূণমিলনের সম্ভাবনা আছে মাত্র কয়েকটা পদ্ধতিতে।

যদি কখোনো আমাদের দেখা হয় এবং সে আমাকে দেখে চিনতে পারে।
যদি কখোনো আমাদের দেখা হয় এবং তাকে দেখার পর তার চেহারা আমার মনে পড়ে ।
আমরা দুজনেই যদি কোনভাবে আমাদের জীবনের গল্প এবং বর্তমান ঠিকানা বা যোগাযোগের মাধ্যম খুঁজে পাই।
তৃতীয় কোন বন্ধু বা ব্যাক্তি যিনি আমাদের সম্পর্কে জানেন এবং আমাদেরকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেন।
আসলে সবকিছুই অনুশীলনের বিষয় । আমাদের মস্তিস্কও তার ব্যাতিক্রম নয়। আমরা প্রতি মূহর্ত পার করছি নতুন নতুন অসংখ্য ঘটনার মধ্যদিয়ে । আর আমাদের মস্তিস্ক্ও এগুলোকে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছে। সকল ঘটনাই যে সমান ভাবে আমাদের মনে থাকবে এমনটাও ঘটে না।

কালের আবর্তন, ঘটনা সংঘটনের সময়, ঘটনা সংঘটনের স্থান এবং ব্যাপ্তি, একই ধরণের অন্যান্য ঘটনা, আপনার স্মৃতিচারণ, নিয়মিত যোগাযোগ, বিশেষ কোন উপলক্ষ, লিখিত বিবরণ ইত্যাদি বিষয় গুলো আমাদের মস্তিস্ককে প্রভাবিত করে। ঠিক যেমনটা ঘটেছে আমার আর আমার বন্ধুটির ক্ষেত্রে। একটু পর্যবেক্ষণ করা যাক ঠিক কি কি বিষয় আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছে।

দীর্ঘদিন আমাদের যোগাযোগ নেই।
আমরা যে একসাথে অনেক ঘণিষ্ঠ ভাবে মিশেছিলাম এমনটিও ছিলনা, আর্থাৎ ঘটনার ব্যাপ্তিও কম ছিল।
বেশ অনেকটা সময় কলেজে যাওয়া হয়নি অর্থাৎ দীর্ঘসময় ঘটনা সংগঠনের স্থানের সাথে কোন সম্পর্ক ছিলনা।
আমার ডায়রীতে তার সম্পর্কে কিছু লেখা নেই, অর্থাৎ আমি যখন ডায়রীতে লিখি তখন আমার তার বিষয়ে স্মৃতিচারণ করার সুযোগ ছিলোনা।
আজ আমার তার কথা মনে পড়ার ক্ষেত্রে , কবিতার লাইন দুটো বিশেষ উপলক্ষ হিসেবে কাজ করেছে।
দুটি কথা:

ডায়রী লেখাটা অনেকের শখের বিষয় হলেও এটা আমাদের মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বর্ধনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া জীবনে এমন সময় আসতে পারে আপনার নিজের হাতে লেখা ডায়েরীটা অনেক মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে আপনার জন্য অথবা অন্যকারো জন্য।

……………………………………………………………………………..

আজ এ পর্যন্ত্ই। সবার জন্য শুভ কামনা রইল।

শিখতে শিখতে শেখানো…

Posted on ১০:৩১ AM
ইন্টারে পড়ার সময়ই আমার এক স্যার বলল আমি এসএসসির একজন শিক্ষার্থীর গনিত শেখাতে পারবো কিনা। আমি সেই সময় থেকেই শিখানো শিখি। শিখানোর সময়ও আমাকে অনেক শিখতে হলো। ইন্টারের বন্ধুদের একটা অংশ মিলে একটি দল তৈরী করি যারা নিজেদের পড়ালোগুলো নিজেদের শিখাবে। আমাদের মধ্যে যে গ্রামারে ভাল সে অন্যদের গ্রামার শিখাতো। পদার্থ বিজ্ঞানে যে ভাল সে পদার্থ বিজ্ঞান শিখাতো। এভাবে শিখাতে গিয়ে আমাদের উভয়েরই বেশ ভাল শিখানো হতো।
ওয়েবে যারা লিখেন এবং শিখান তারাও যে অনেক জানে তা কিন্তু নয়। কিন্তু তারা নিজেদের অভিজ্ঞতাকে ছড়িয়ে দেওয়ার চেস্টা করেন। বাংলা টেক ব্লগে এই বিষয়টি আমাকে অনেক অনুপ্রানিত করে আর তাই অনেক নিয়মিতই লিখে যাচ্ছি। অনেক ব্লগারই তাদের নিজেদের কাজকে, শিখা জ্ঞানকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আর তাদের কি লাভ হচ্ছে না? যারা নিয়মিত লিখে যান তাদের গতিও থেমে নেই ।

অনলাইনে শিখাতে গিয়ে বিশেষ করে ব্লগারদের বেশ কিছু জিনিস শেখাও হয়-

১. নিয়মিত আপনি লিখে গেলে দেখতে অনেক সময়ই নতুন বিষয় খুজে বেড়াবেন যা লেখা যায়। লেখার উপকরণ খুজতে গিয়ে অনেক সময় নতুন কোন বিষয় শিখা হয়ে যাবে।

২. আবার সাধারন শেখা আর শিখানোর জন্য শেখা ভিন্ন জিনিস। আপনি যদি কাজটি করতে চান তখন হয়তো কাজটা সম্পন্ন করাই আপনার লক্ষ্য হবে। কিন্তু কাজটি অন্য কাউকে শিখাতে গেলে বিষয়টি সম্পর্কে আপনার একটু বেশিই জ্ঞান থাকতে হবে। আর তাই নিজের অজান্তেই আপনি গভীর মনোযোগ সহকারে শিখবেন। কারন আপনি আগেই জানেন যে বিষয়টি শিখাতে হবে।

৩. ধরা যাক, আপনি একটি বিষয়ে লিখলেন। লেখার পর মতামত অংশে বেশ কিছু প্রশ্ন আসতে পারে যা আপনি আগে চিন্তাও করেন নাই বা যা জানেনও না। এক্ষেত্রে আরেকটি নতুন বিষয় শেখার মানসিকতা তৈরী হবে।

এভাবে আমরা অন্যর জন্য কাজ করে নিজের উন্নতি সাধন করতে পারি।

Posted on ১০:২৯ AM
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে যে তিনটি বিষয় বলা হয় না
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ক্ষেত্রে সাধারনতঃ নতুন একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে খুজে পেতে যা যা করার দরকার পরে তার উপরে কথাগুলো বলা হয়। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমেইজেশনের ক্ষেত্রে যে তিনটি বিষয় বলা হয় না তার মধ্যে অন্যতম তিনটি বিষয় তুলে ধরা হলো-

১. দির্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাঃ
একটি ওয়েবসাইট বা পণ্য বা ব্র্যান্ডকে সার্চ ইঞ্জিন বান্ধব করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক কাজটুকু শেষ করেই অনেকের সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যায়। একটি ওয়েবসাইটের প্রাথমিক ব্যাক লিংক এবং ব্র্যান্ডিং এর কাজটুকু অনেক সময়ই ওয়েব ডিজাইনের সাথে সম্পর্কিত থাকে আর এই কাজগুলোকে অনেকে ওয়েব ডিজাইনের মতোই প্রাথমিক কাজ হিসেবে নিয়ে এবং গুগলে ইন্ডেক্স করা এবং একটি পেজ র‌্যাংক দেওয়া পর্যন্ত অবস্থাকেই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বলে ধরে নেয়।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনএর জন্য দির্ঘমেয়াদী কাজ করতে হবে।

২. নিয়মিত কনটেন্ট
নিয়মিত সার্চ ইঞ্জিনগুলোকে নিজের সাইটের জন্য সক্রিয় রাখতে হলে অবশ্যই নিয়মিত কনটেন্ট রাখতে হবে। আপনার ওয়েবসাইটে যদি নিয়মিতভাবে কনটেন্ট থাকে তাহলে এগুলোকে গুগল অপ্রয়োজনীয় ভেবে নিতে পারে এবং দিন দিন এই তথ্যগুলো আনইনডেক্সও করে দিতে পারে। বরং নিয়মিত কনটেন্ট থাকলে গুগল বটও বার বার এসে নতুন এবং পুরাতন তথ্যগুলোকে রি ইনডেক্স করে নেবে।

তাছাড়াও নিয়মিত ভিজিটর পেতেও এটি সহায়ক হয়।

৩. পরিবর্তনকে আগে থেকে মেনে নেওয়া
ওয়েব পরিবর্তনশীল। এখনই ভেবে নিতে হবে যে আমাকে পরিবর্তিত হয়ে যেতে হতে পারে। সময়ের ব্যবধানে ওয়েবে টেক্সট, এনিমেশন, ভিডিও ইত্যাদির ব্যবহার বেড়েই চলছে। সেই সাথে ডিজাইন ও লেআউটেও সৃজনশীলতার ধারা প্রবাহিত হচ্ছে এবং এই প্রবাহ চলতেই থাকবে।

এইচটিএমএল৫, সিএসএস৩ যেমন ডিজাইন ও কোডিং এ নতুন ধারা এনেছে। তেমনি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে সামাজিক নেটওয়ার্কের প্রভাবও বেড়েই চলছে। আর তাই পরিবর্তনের ধারায় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনেও পরিবর্তন আনতে হবে।

মানুষ ভয় পাওয়ার ঘটনা

Posted on ১১:৩৩ AM
আমি যে আপনাদের কাছে এমন একটি বিষয় নিয়ে শিয়ার করতে যাচ্ছি যেটি আমার বড় ভাইয়ের জীবনে ঘটে যাওয়া একটি সত্য ঘটনা। আমি তার কাছ থেকে শুনেছি। আমার বড় ভাই এর নাম রুহুল আমিন। তো যাই হোক মূল ঘটনায় আসা যাক।আমার বড় ভাই ও তার বন্ধু নুর জামান এরা গ্রামের বখাটে ছেলেদের মধ্যে অন্যতম তাদের প্রধান কাজ হলো মানুষের সাথে শয়তানি করা এবং মেয়ে মানুষের সাথে প্রেম করা। তো একদিন গভীর রাতে তাদের প্রেমিকাদের সাথে দেখা করে আমাদের কাছে থাকা এক জঙ্গলের রাস্তায় তারা বিড়ি টানতে বসে এবং আমার বড় ভাই তার বন্ধু কে বলে যে এ রাস্তা দিয়ে আজ কোন মানুষ গেলে তার সাথে আজ মজা করব এ বলে জঙ্গলের রাস্তার দু-পাশে থাকা বাঁশ গাছগুলি রাস্তার এক পাশ থেকে অন্য পাশে হালায় ফুটকির গাছের সাথে বেধে দেয় এমনি করে ৫-৬ টা বাশ কিছু দুর পর কিছু দুর পর বেধে রাখে খুব আলগা ভাবে যেন কেউ নাড়লে সেটা আবার সোজা হয়ে যায়। এমন করে বেধে রেখে তারা সাইটে গিয়ে আবার বিড়ি টানতে শুরু করে। তো ঠিক সে মুহুর্তে আমাদের পাশের গ্রামের এক মানুষ তার বোনের বাড়ি থেকে ঐ রাস্তা দিয়ে বাসা যাচ্ছিল ব্যাস সামনে দেখতে পেল তাদের ঐ বাশ হালানো দৃশ্য ফলে তার গায়ের লোম সোজা হয়ে গেল তারপর ঐ মানুষ কি সুরা পাঠ করতে শুরু করল আর ঐ জঙ্গলে থাকা ভূতদের কাছে মাফ চাইতে শুরু করল আর ঐ সময় নাকি মানুষটা বলতেছিল ভয় ভয় কণ্ঠে যে ভাই আমি তোমাদের সাথে কি ভুল করেছি যে আমার পথ এভাবে আটকিয়েছ। এরকম অনেক কাকুতি মিনতি করে অবশেষে সুরা পরে নিজের বুকে ফু দিয়ে বাশ ধরার সাথে সাথে বাশ উপরে উঠে গেল ওমনি মারল এক দৌড় আবার সামনে আরেক বাশ আবার (অপেক্ষায় থাকুন)

একটি ভূতের গল্প

Posted on ১২:৫১ PM
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৪ মে ২০০৯, ১১:৩২ PM)
ক্যাটেগরি:গল্প অণুগল্প সাহিত্য

অন্ধকার রাত, অমাবস্যা রাতের এই ঘুটঘুটে কালো অন্ধকারেই একাকী হেঁটে যাচ্ছে বিপুল। তার হাতে কোন আলো নেই এমনকি আলো জ্বালাবার কোন উপকরণও নেই। তবুও সে হাঁটছে নির্ভীক নিশাচরের মত। মধ্যরাতের এই নিঃস্তব্ধতাকে ভেদ করে কেবল তার হেঁটে চলার শব্দ ভেসে আসছে। গাছের ঝরা শুকনো পাতা মাড়িয়ে যাওয়ার শব্দ অন্ধকারটাকে যেন আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। অথচ তার আচরণে ভয়ের বিন্দুমাত্র চিহ্নটি নেই। সে এগিয়ে যাচ্ছে গোরস্থানের দিকে, তার হাতে একটি মরা বেড়াল। তার সম্মুখে ঘন গাছের সারি, তার পরে আরও আধ মাইলের মত রাস্তা, তারপর গোরস্থান।

হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থেমে পড়ে বিপুল। তার পাতা মাড়ানোর শব্দ থেমে গেল কিন্তু আরও একটা প্রাণীর হেঁটে আসার শব্দ তখনও স্পষ্ট। পিছন ফিরে তাকালো বিপুল, ঘুটঘুটে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না তার, তবে শব্দটা থেমে যায়। পৃথিবী এখন নীরব, নিজের শ্বাস প্রশ্বাস এমনকি চোখের পলক ফেলার শব্দটুকুও বুঝি শোনা যাবে কান পাতলেই। কিছুটা সময় তাকিয়ে থেকে ফের চলতে শুরু করে বিপুল, তার হাতে ঝুলছে মরা বেড়ালটা। ঘন গাছের সারি পার হয়ে খোলা মাঠে হাঁটছে বিপুল। এমন খোলা মাঠেও আকাশে ফুটে থাকা তারা ব্যতিত আর কোন আলো চোখে পড়ে না। শ্মশানের মত নীরব মাঠে একাকী হেঁটে যায় বিপুল গোরস্থানের উদ্দেশ্যে।

অবশেষে এসে পৌঁছায় গোরস্থানে। ছুঁড়ে ফেলে দেয় নিজের হাতে করে বয়ে আনা বেড়ালটা। দূরে বেড়ালটার পতনের শব্দ হয় ঝপাৎ করে, সাথে যোগ হয় আরো কতগুলো শব্দ। একদল ভক্ষকের মাংস ছিড়ে খাওয়ার শব্দ। বেড়ালটা পড়ার সাথে সাথে যেন কারা তাকে ছিঁড়ে খুড়ে খেয়ে ফেলে। অন্ধকারে সে দৃশ্য দেখা যায় না, কিন্তু একদল মাংসাশীর খাদ্য গ্রহণের শব্দগুলো পরিষ্কার ফুটে উঠে নিঃশব্দ অন্ধকারকে ভেদ করে। এবার বিপুল ভীত হয়, দ্রুত পদে পিছিয়ে আসতে চায়। অন্ধকারের বুকে নিজের পথটা খুঁজে নিতে পিছন ফিরে সে। কিন্তু পথ খুঁজে পায়না, কেমন যেন ভ্যাবাচ্যাকা লাগে। পিছন হতে কারো পদধ্বনি শুনতে পায়, যেন সদলবলে কারা এগিয়ে আসছে তার দিকে বিপুল বেগে। শব্দেরা ক্রমশ নিকটবর্তী হতে থাকে, একসময় বিপুলের কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ অনুভূত হয়, ফিরে তাকায় বিপুল.... । বিদ্যুৎটা চলে গেল, ভূতের যে নাটকটা উৎসাহ নিয়ে দেখছিলাম কিন্তু সেটি আর শেষ করা হলো না।

হজরত ইব্রাহিম (আ•)

Posted on ৩:৩৫ PM
আল কোরআনে বর্ণিত নবীদের মধ্যে ইব্রাহিম (আ•) ষষ্ঠ। তাঁর পিতা অগ্নিপূজক আজর ছিলেন ফেরাউনের মন্ত্রী। ইরাকের নাসিরিয়া থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার এবং বাগদাদ থেকে ৩৯৬ কিলোমিটার দূরে ‘উর’ নামক স্থান, যা প্রাচীন বাবেল শহর নামে পরিচিত, এখানে একটি বিধ্বস্ত দোতলা বাড়ি, যেখানে মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ•) প্রায় চার হাজার বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালে এক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, ইব্রাহিম (আ•)-এর সময়ে এ নগরীতে ৪০ ফুট উঁচু ১১৮০টি মন্দির ছিল। বাবেল শহরের ম্যাকফেলা গুহায় তাঁর মাজার রয়েছে। হিট্রিদের কাছ থেকে ম্যাকফেলা গুহাটি ক্রয় করেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী হাজেরার গর্ভে ইসমাইল (আ•) জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহর নির্দেশে শিশুপুত্রসহ বিবি হাজেরাকে মক্কা উপত্যকায় নির্বাসন দান করেন। অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে ইসমাইল (আ•)কে কোরবানির নির্দেশ আসে। ইব্রাহিম (আ•) ফিলিস্তিনে ফিরে গিয়ে দেখেন সারার গর্ভের হজরত ইসহাক (আ•)-এর জন্ম হয়েছে। ইব্রাহিম (আ•) ও ইসমাঈল (আ•) সম্মিলিতভাবে কাবাঘর পুনর্নির্মাণ করেন। তাঁর নাম কোরআনের ২৫টি সূরায় ৬৯ বার আল্লাহ উল্লেখ করেছেন। তিনি ১৭৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ইব্রাহিম (আ•)-এর সময় রাষ্ট্রপ্রধান ছিল নমরুদ।

নমরুদদের রাজ্য ছিল বাবেল, ইরাক ও কলোনি অঞ্চল নিয়ে বিস্তৃত। অতঃপর আল্লাহর গজব মাছি দ্বারা আক্রান্ত হয়ে নমরুদ মৃত্যুবরণ করে।

ইদানিং ডা জাকির নায়েককে নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে সমালোচনার জওয়াব নিয়ে আমি পোস্ট ও দিয়েছি।
যেহেতু তিনি প্রধানত অন্যান্য ধর্ম নিয়ে বেশী লেকচার দেন। তাই তার বিরুদ্ধে যে কোন ধরণের সমালোচনা আমাদের ইসলাম প্রচারে বেশ প্রভাব ফেলে। তাই আমি সবার প্রতি অনুরোধ করছি। আপনাদের কি অভিযোগ আছে তা আগে নিচের ইমেইলে জানান। তারপর প্রশ্নে উত্তর পাবার পর প্রয়োজন হলে পোস্ট দিয়েন। আমি আপনাদের আবারও অনুরোধ করবো এভাবে অযথা ধ্রুমজাল সৃষ্টি করে ইসলাম প্রচারে বাধা দিয়ে গুনাহের ভাগী হবেন না।
তাই কোন আপত্তি ও সমালোচনা থাকলে নিচের ইমেইলে যোগাযোগ করুন। ইনশাআল্লাহ প্রমাণ সহকারে জবাব দেয়া হবে । আর ভুল হয়ে থাকলে স্বীকার করা হবে । আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
আপনাদের কারও মনে প্রশ্ন জাগলে ইমেইল করুন। অযথা অপপ্রচারে কান না দিয়ে প্রশ্ন করুন । ইনশাআল্লাহ দলীল প্রমাণ ভিত্তিক জওয়াব দেয়া হবে ।তবে জওয়াব পেতে দেরী হতে পারে কারণ প্রমাণ সহকারে জওয়াব দেয়া একটু সময় সাপেক্ষ। আর আপনি তার উদ্ধৃতি গুলো কোন লেকচারে পেয়েছেন, কোন বইয়ে পড়েছেন, তার লিংক এবং প্রকাশনীর নাম প্রকাশ করবেন।

মাঝে মধ্যেই “কোরআন ও নারী”, “ইসলামে নারী” বা “কোরআনের আলোকে নারী” প্রভৃতি শিরোনামের নানা পোস্ট দেখা যায়- যেখানে বিভিন্নভাবে প্রমান করার চেস্টা করা হয় যে, ইসলাম নারীকে ব্যাপক মর্যাদা দেয়, কোরআনে নারীর মর্যাদা অনেক উচ্চে- যেনবা ইসলামের মাধ্যমেই নারীর সমস্ত অধিকার আদায় সম্ভব। বলাই বাহুল্য এগুলোর সবই নানাবিধ মিথ্যায় সাজানো। সবচেয়ে বেশী আপত্তিকর হচ্ছে- মাঝে মধ্যে এমনসব বিষয়ের পক্ষে যুক্তি হাজির করা হয় যেগুলো ইতিমধ্যেই আমাদের সমাজব্যবস্থায়- আমাদের সংস্কৃতিতে পরিত্যজ্য বলে পরিগনিত। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পোস্টের কমেন্টে কথা বলেছি-আরো অনেকেই অনেক কিছু বলেছেন, চমৎকার সব যুক্তি করেছেন- কিন্তু জাকের নায়েকদের শিষ্যদের কোন লাজ-লজ্জার বালাই নেই, একই কাসুন্দি তারা বারেবারে ঘুরেফিরে বাজাতেই থাকে, বাজাতেই থাকে। আজকের পোস্টে সেগুলো নিয়েই কথা বলবো।

জাকির নায়েকরা কি বলছেন?
আজ সুস্থ বুদ্ধি ও বিবেক সম্পন্ন ব্যক্তিমাত্রই ইসলামের যে বিষয়গুলো নিয়ে দ্বন্দ্বে থাকে, প্রশ্ন উত্থাপন করে- আপত্তি করে, সেগুলো নিয়ে জাকির নায়েকরা এক ধরণের যুক্তি করার চেস্টা করছে, আর জাকির নায়েকদের এই ব্যাখ্যায় বুঝে হোক আর না বুঝেই হোক- কাঠমোল্লারা দারুন উচ্ছসিত, পায়ের নীচে মাটি পাওয়ার মতই তাদের অবস্থা। আর, তাই জাকির নায়েকরা খুব জোরেশোরে “ইসলাম নিয়ে অমুসলিমদের জিজ্ঞাসার জবাবে”, বা “কোরআন নিয়ে বিভ্রান্তির জবাবে” বা “কোরআন ও বিজ্ঞান” – এমন নানা শিরোনামে তারা বক্তব্য হাজির করছে। অন্য বিষয়গুলো আজ আপাতত আনছি না- শুরুতে ইসলাম ও নারী বিষয়ক আলোচনায় দৃষ্টি দেয়া যাক। এই লেখাটিতে মুহম্মদ সা কে কেন্দ্র করে কোন আলোচনা করছি না কারণ আগেই সেটা যথেস্ট করেছি- যারা এখনও পড়েননি তারা এখানে ও এখানে ক্লিক করতে পারেন।

প্রথমে জাকির নায়েকদের দ্বারা জবাব দেয়া ইসলাম সম্পর্কিত ‘অমুসলিম’দের (মানে যারাই প্রশ্ন তুলবে- তারাই অমুসলিম!) প্রধান তিনটি প্রশ্ন দেখা যাক:
১। “মুসলমান পুরুষদের একাধিক বিবাহের অনুমতি দেয়া হয়েছে কেন?”
২। “পুরুষদের একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও নারীদের নেই কেন?”
৩। “নারীদের বোরকার আড়ালে রেখে অবমাননা করা হয় কেন?”

প্রশ্ন তিনটিই খুবই যৌক্তিক এবং প্রত্যাশিত। এগুলো নিয়ে জাকের নায়েক গং রা কি বলছে সেটা দেখি। এর বাইরেও আরো কিছু প্রশ্নকে মোল্লারা “কাফিরদের অভিযোগ” হিসাবে উত্থাপন করে কিভাবে জবাব দেয়ার চেস্টা করে সেগুলোও একে একে আলোচনা করবো। সাথে সাথে এদের করা যুক্তিগুলোও খণ্ডন করার চেস্টা করবো।

১। “মুসলমান পুরুষদের একাধিক বিবাহের অনুমতি দেয়া হয়েছে কেন?”
জাকির নায়েকের “Answers to the Non-Muslims Common Questions about Islam” গ্রন্থে অমুসলিমদের করা নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছে। সরাসরি জাকির নায়েকের মুখ থেকে এগুলো শুনতে ও দেখতে ইউটিউবে যেতে পারেন।
জাকির নায়েক: এক

জাকির নায়েক: দুই

কি সেই জবাব- কি সেই যুক্তি? এবারে সেটাই তাহলে সংক্ষেপে দেখা যাক:
“পৃথিবীতে কোরআনই একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যেখানে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র একটি বিয়েই করা উচিত”- ঠিক এমনটি বলেই জাকির নায়েকদের যুক্তির শুরু। যেন বা নৈতিকতার বিচার অন্যসব ধর্মের সাথে তুলনা করেই হয়! মোল্লাদের খুব গর্বের সাথে গল্প করতে শুনা যায়- “বাকী সকল ধর্মগ্রন্থে (রামায়ন, গীতা, বাইবেল…) ইচ্ছেমত বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে। পরবর্তীকালে, পুরোহিতরা মিলে একবিবাহ নিয়ম চালু করেন। কিন্তু তাদের ধর্মগ্রন্থতে এব্যাপারে কোন নির্দেশনা নেই। .. ১৯৫০ সালেও ইহুদীদের মধ্যে বহুবিবাহের প্রথা চালু ছিল। তারপর ইহুদী নেতারা এই প্রথা বন্ধ করেন।…. ১৯৫৪ সালে হিন্দু বিবাহ আইনে একবিবাহ প্রথা চালু হয়”। কথায় আছে- ভেড়ার পালে বাছুর পরমানিক, এ যেন গোবরের সাথে তুলনা করে হাঁস-মুরগীর বিষ্ঠাকে কম দুর্গন্ধময় বলে ঘোষণা দেয়া! কিন্তু এরা যে বুঝতেও পারে না -ধর্মগ্রন্থে না থাকার পরেও যুগপ্রয়োজনে- সময়ের পরিবর্তনে ধর্মীয় প্রথাকে পাল্টিয়ে দেয়া যে কত মহৎ, কত বৈপ্লবিক!

যাহোক- একদম শুরুর যে দাবি- সেটা জাকির নায়েকরা কিসের ভিত্তিতে বলছে?
কোরআনে বলা হয়েছে:
“মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও, দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। তবে যদি আশঙ্কা হয় যে, তাদের সাথে ন্যায়সঙ্গত আচরন করতে পারবে না তবে শুধুমাত্র একটি।” আল কোরআন (৪:৩)।

এবং:
“তোমরা চাইলেও নারীদের মাঝে ন্যায়বিচার করতে পারবে না…।” আল কোরআন (৪:১২৯)।

সুরা নিসার ৩ নং আয়াত এবং ১২৯ নং আয়াতের প্রথম বাক্যকে পাশাপাশি রেখে এরা এমনই ধারণা তৈরি করতে চায় যে- কোরআন অনুযায়ি- চারটি পর্যন্ত বিয়ার অনুমতি থাকলেও তার ক্ষেত্রে শর্ত প্রযোজ্য এবং মূল শর্তটি হচ্ছে স্ত্রীদের সাথে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে হবে এবং ন্যায়বিচার করতে না পারার আশংকামাত্র থাকলেই শুধুমাত্র একটা বিয়ে করতে হবে (৪:৩) এবং স্পষ্টতই আল্লাহ জানিয়ে দিচ্ছেন- চাইলেও নারীদের মধ্যে ন্যায়বিচার করা সম্ভব না (৪:১২৯)- সেহেতু চুড়ান্ত বিচারে দাঁড়াচ্ছে- কোরআনে একটি বিয়ের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। জাকির নায়েকের এই যুক্তিটুকু পড়লে বা শুনলে মনে হয় বাহ কি সুন্দর, ভালোই তো! কিন্তু জাকির নায়েক সম্পর্কে পূর্ব ধারণা থাকায় জানি যে, এই লোক নিজের যুক্তি সাজাতে মিথ্যাচার করতে, কোরআনের আয়াত নিজের ইচ্ছামত ব্যবহার করে সুকৌশলে নতুন ব্যাখ্যা হাজির করতে- এমনকি মাঝে মধ্যে কোরআনের আয়াত-শব্দের প্রচলিত অর্থ পাল্টে ফেলতে সিদ্ধহস্ত। তাই সুরা নিসার ৩ নং ও ১২৯ নং আয়াত দুটি একটু যাচাই করার চেস্টা করি। ১২৯ নং আয়াতটি পুরো পড়লেই বুঝা যাবে:
And you will never be able to be equal [in feeling] between wives, even if you should strive [to do so]. So do not incline completely [toward one] and leave another hanging. And if you amend [your affairs] and fear Allah – then indeed, Allah is ever Forgiving and Merciful.

অর্থাৎ, “তোমরা চাইলেও নারীদের মাঝে ন্যায়বিচার করতে পারবে না”- এটা বলার পরপরেই যখন আল্লাহ মুমিন বান্দাদের উদ্দেশ্যে আহবান জানায়- “সুতরাং তোমরা কোন একজনের প্রতি সম্পূর্ণ ঝুঁকে পড়ো না ও অন্যজনকে ত্যাগ করো না”- তখন কি বলা যায়, জাকির নায়েক এর টানা সিদ্ধান্তটা খোদ আল্লাহর টানা সিদ্ধান্তর অনুরূপ? একটা ফিল্ম এপ্রিসিয়েশন কোর্স করেছিলাম- সেখানে আইজেনস্টাইনের মনতাজ সম্পর্কে কিছু লেকচার দেয়া হয়েছিল। বিষয়টা অনেকটা এরকম। (আমার উদাহরণে বলছি)- ধরেন বারাক ওবামার একটা ৫ সেকেন্ডের শট – যেখানে ওবামা খুব উৎফুল্ল- দারুন হাসিখুশী- হাত তালি দিচ্ছেন। এডিটিং প্যানেলে এই শটের আগে আরেকটি শট যেখানে দেখা যায় ইরাকে বোমা ফেলা হচ্ছে- সেটা যুক্ত করে দিলে একরকম অর্থ তৈরি হয়, আবার পূর্ববর্তী শটে যদি নির্বাচনে জেতার নিউজ দেখানো হয় তবে আরেক অর্থ, পূর্ববর্তী শটে মিশেল ওবামাকে দেখালে একরকম অর্থ- আর হিলারি ক্লিনটনকে দেখালে আরেক রকম ইমপ্রেশন তৈরি হয়। সুরা নিসার দুই জায়গার দুটি আয়াতকে পাশাপাশি বসিয়ে একরকমের ইমপ্রেশন তৈরি চেস্টা দেখে মনে হলো- জাকির নায়েক ফিল্ম ডিরেকটর হলে খুব ভালো করতেন।

যাহোক, মোল্লাদের আরেকটি যুক্তি খুব জোরের সাথে করতে দেখা যায়- সেটা হলো: একের অধিক বিয়ে (চারটি পর্যন্ত) বিয়ে তো ফরজ না, সুন্নতও না, ওয়াজিব না, মুস্তাহাবও না। এটা কেবলমাত্র মুবাহ, মানে করলেও হয়- না করলেও হয়, একে কখনো উৎসাহিত করা হয়নি। অনেকে রেগে গিয়ে বলেই বসে- “আপনাকে তো বহুবিবাহ করতে বাধ্য করছে না- আপনার করতে ইচ্ছা না হলে করবেন না”। অবাক হয়ে ভাবি- এরা কি আপত্তির জায়গাটাই ধরতে পারছে না? বহুবিবাহ কেন নিষিদ্ধ নয়? কেন এটা একজন পুরুষের মর্জির উপর ছেড়ে দেয়া হলো? যে বহুবিবাহ করতে চায় না তাকে বাধ্য করা হচ্ছে না ঠিকই, কিন্তু মূল প্রশ্নতো- যে কামুক ব্যক্তি একের পর এক বিয়ে করে যেতে চায়- তার জন্য কি কোন বাধ্যবাধকতা রাখতে পেরেছে কোরআন?

না পারেনি। তবে কেন বাধ্যবাধকতা রাখেনি সেটার একটা বৈজ্ঞানিক কারণ হাজির করেছে জাকির নায়েকরা। বড়ই অভিনব সে কারণ। সেটাই তাহলে শুনি:
“সাধারনত নারীশিশু ও পুরুষশিশু সমান অনুপাতে জন্মায়। তবে নারীশিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি বিধায়, তুলনামূলক নারীশিশু বেশি বাঁচে। এছাড়াও যুদ্ধ-বিগ্রহে, নারীর তুলনায় পুরুষের মৃত্যুর হার বেশি। দুর্ঘটনা ও রোগে, পুরুষদের মৃত্যুর হার বেশি। এটা স্বীকৃত যে, পুরুষদের চেয়ে নারীরা বেশিদিন বাঁচে। এসব কারনে, যেকোন নির্দিষ্ট সময়ে জরিপ করলে দেখা যায়, বিপত্নীকদের চেয়ে বিধবার সংখ্যা বেশি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা ৭৮ লক্ষ বেশি। শুধুমাত্র নিউইয়র্কে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা ১০ লক্ষ বেশি। নিউইয়র্কে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ নারী। যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটি ৫০ লক্ষ পুরুষ সমকামী (নারীদের বিয়ে করতে উৎসাহী নয়)। কাজেই, যদি একজন পুরুষ একজন নারীকে বিয়ে করে তাহলে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ৩ কোটি নারী সঙ্গীহীন থেকে যাবে। একইভাবে যুক্তরাজ্যে ৪০ লক্ষাধিক, জার্মানীতে ৫০ লক্ষাধিক, রাশিয়ায় ৯০ লক্ষাধিক নারী সঙ্গীহীন থাকবে। ধরা যাক, আমার বোন যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গীহীন অবস্থায় আছে অথবা ধরুন আপনার বোন যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গীহীন রয়েছে। তাহলে, তার সামনে ২টি পথ খোলা আছে।
১. বিবাহিত কোন পুরুষকে সঙ্গী হিসেবে মেনে নিতে হবে।
২. ‘জনগণের সম্পত্তি (public property) হতে হবে।”

এই যুক্তি অভিনব তো বটেই, তারচেয়ে বেশি এটা অশ্লীল। সঙ্গীহীন থাকলে আমার বোনের সামনে দুটো পথই খোলা থাকবে? বিবাহিত পুরুষকে বিয়ে করতেই হবে, নচেত প্রোস্টিটিউশনে নামতেই হবে? এই যুক্তির পক্ষে বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে বলা হচ্ছে: “এটা ঠিক যে, অধিকাংশ নারীই স্বামীকে শুধু নিজের বলেই প্রত্যাশা করেন। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে এই ক্ষুদ্র প্রত্যাশা ত্যাগ করা শ্রেয়”। অবাক লাগে- কতখানি পারভার্ট হলে এমন কথা লোকে বলতে পারে! নারীদের এরা কি চোখে দেখে?

আর জাকির নায়েক যে তথ্য-উপাত্ত দিয়েছে সেখানেও একটা বড় রকমের ফাঁক আছে। সেটাই এবারে দেখি:
জাকির নায়েকের তথ্যমতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানী, রাশিয়ায় পুরুষের চেয়ে নারীর মোট সংখ্যা বেশি। ঠিক আছে। কিন্তু গোটা দুনিয়ায় নারী-পুরুষ এর অনুপাতটা কেমন? এই অনুপাত- ১:১.০৫, মানে পুরুষের সংখ্যাই বেশী।
এবারে আসুন বয়সের হিসেবে দেখি-
নারী:পুরুষ-
জন্মের সময়- ১:১.০৫
১৫ বছরের নিচে- ১:১.০৫
১৫-৬৪ বছর- ১:১.০২
৬৫ কিংবা তদুর্ধ- ১:০.৭৮
কাজেই দেখা যাচ্ছে এই যুক্তি তখনই খাটে যখন নবীন পুরুষ অতি প্রবীণ নারীদের বহুবিবাহ করে!!!!
এবার, জাকির নায়েকদের উল্লেখ করা যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যানের দিকে তাকানো যাক।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৩৪,৭৭৪,৮৯৪ জন পুরুষ এবং ১৪০,৭৮৭,৭৭৯ জন নারী।
অর্থাৎ ৬ মিলিয়নের মত নারী বেশি। এদের মধ্যে ৫.৯ মিলিয়নই কিন্তু ৬৫ বছরের উর্ধে!!
সেখান থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ১৮ থেকে ৬৪ বছর পর্যন্ত নারী পুরুষের অনুপাত প্রায় সমান। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারী-পুরুষেরা মোটামুটি ১৮-৪০/৪৫ বছর বয়সে তাদের প্রথম বিয়ে করে থাকে বলেই জানি। সেক্ষেত্রে এক পুরুষ এক নারী বিয়ে করলে অনেক নারীকে বিয়ে করার মত পুরুষ পাওয়া যাবে না বলে যে দাবী করা হচ্ছে তা অবান্তর।

আর, ৬৫ উর্ধ নারীদের সংখ্যা বেশী। সেক্ষেত্রে দুটো বিষয় হতে পারে। এক: এরা বিবাহিত কিন্তু স্বামী মারা গিয়েছে অর্থাৎ এরা বিধবা; অথবা এরা ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত কোন কোন কারণে বিয়ে করেনি।

এই অংশটুকু যদি স্বামীর ঘর করতে চায় তবে পুরুষ পেতে সমস্যা হতে পারে। বিধবাদের ক্ষেত্রে বেশীরভাগ সময়ই দেখা যায় সন্তান-সন্ততি, নাতিপুতি নিয়েই এমন ব্যস্ত এবং সামাজিক অবস্থা এমনই যে বিয়ে করা হয় না, বা বিয়ে করার চিন্তাই মাথাতে আসে না। কেননা, মেনোপেজের পরে শারীরিক চাহিদাটাও সেরকম থাকে না, ফলে সঙ্গী শুধু মানসিক সঙ্গের জন্যই প্রয়োজন হতে পারে, সেটা সামাজিক পরিমণ্ডলই পূরণ করতে পারে। আর যাই হোক পোস্টদাতার কথা মত অন্য বউ আছে এমন লোককে ৬৫ বছরের এক বুড়ি বিয়ে করতে না যাওয়ারই কথা, আর পাবলিক সম্পত্তিতে পরিণত হওয়াটা তো শুধুই পাগলের প্রলাপ। আর ৬৫ বছর পর্যন্ত বিয়ে না করে থাকলে, ৬৫ বছর পার হওয়ার পরে বিয়ে করার জন্য উতলা হবে এমন সম্ভাবনাও কম দেখি। আর যদি ৬৫ বছরে এসে বিয়ে করতে মনস্থির করে শেষে পাত্র যদি নাই পাওয়া যায়, তবে সেটাও মনে হয় সেই নারী মেনেই নিবেন। পাবলিক সম্পত্তিতে পরিণত হওয়া বা সতীনের ঘরে প্রবেশ করার সম্ভাবনা পোস্টদাতার মত কিছু ধর্মান্ধের প্রভাবপুষ্ট নারী আত্মীয় স্বজনেরা ব্যতিত কমই দেখি।

এবারে আসুন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যেখানে বহুবিবাহের হার অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক বেশি সেগুলোর নারী-পুরুষের অনুপাত দেখি-
নারী : পুরুষ-
বাহরাইন- ১ : ১.৩
জর্দান- ১ : ১.১
কুয়েত- ১ : ১.৫
ওমান- ১ : ১.৩১
কাতার- ১ : ১.৯৩
সৌদি আরব- ১ : ১.২৪
আরব আমিরাত- ১ : ১.৫১
(২০০০ সাল পর্যন্ত) (সূত্র: উইকিপিডিয়া এবং সি আই এ ফ্যাক্ট বুক)
উপর থেকে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে এরা কেউই নারীর আধিক্যের কারণে বহুবিবাহ করেনা। এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে এই নারীদের অনেকেই ৬৫ বছরের উর্ধে, কাজেই বিবাহযোগ্য নারীর সংখ্যা কিন্তু আরো কমে যাচ্ছে!!

অনেককে আবার এমনও যুক্তি করতে শুনা যায়: “বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বহু বিবাহ প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সে প্রয়োজনকে সামনে রেখেই ইসলাম বহু বিবাহের অনুমোদন দান করেছে। এখন আসুন আমরা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করি বহু বিবাহের সেই বিশেষ প্রয়োজনীয় দিক গুলি কি কি? (১) কেউ তার বংশের ধারা অব্যাহত রাখতে ইচ্ছুক; কিন্তু তার বর্তমান স্ত্রী সন্তান ধারণে অক্ষম। এ ক্ষেত্রে পুরুষ বর্তমান স্ত্রীকে সাথে রেখে আরেকটি বিয়ে করতে পারেন। (২) বর্তমান স্ত্রী স্বামীর যৌন চাহিদা মিটাতে অক্ষম হলে (৩) কোন কোন মানুষের যৌন শক্তি খুব প্রবল ও প্রচন্ড হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তার একাধিক বিয়ের প্রয়োজন হতে পারে। (৪) যুদ্ধ বিগ্রহ-মহামারী- ‍দুর্ঘটনা ইত্যাদির কারণে কোন দেশে পুরুষের সংখ্যা সাংঘাতিক ভাবে হ্রাস পেলে মহিলাদের সার্থেই বহু বিবাহ প্রয়োজন হতে পারে। উপরোক্ত ক্ষেত্রে সমাজ এবং মহিলাদের উচিৎ সহেযোগীতা করা”।

এই সমস্ত যুক্তিকে মানতে হলে- আরো কিছু প্রশ্ন চলে আসে- জাকির নায়েকরা সেসবের জবাব কেমন করে দিবেন?
# এই সমস্ত ঘটনা কোন নারীর সাথে হলে , মানে ১) কেউ তার বংশের ধারা অব্যাহত রাখতে ইচ্ছুক; কিন্তু তার বর্তমান স্বামী সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হলে, (২) বর্তমান স্বামী স্ত্রীর যৌন চাহিদা মিটাতে অক্ষম হলে (৩) কোন কোন স্ত্রীর যৌন শক্তি খুব প্রবল ও প্রচন্ড হলে (৪) কোন কারণে কোন দেশে নারীর সংখ্যা সাংঘাতিক ভাবে হ্রাস পেলে —— তখন কি নারীর বহু স্বামী জায়েজ হবে?
# যদি লিঙ্গনির্দিষ্ট গর্ভপাত নাও করা হয়, জীববৈজ্ঞানিক নিয়ম অনুসারেই একটি জনগোষ্ঠীতে জন্মগ্রহণের ক্ষেত্রে মেয়ে শিশুর অনুপাতের থেকে ছেলে শিশুর অনুপাত বেশি থাকে (জার্মানিতে ৯৪:১০০)। কিন্তু সমান সুযোগ-সুবিধা পেলে বিভিন্ন বয়স-বর্গে মেয়েদের থেকে ছেলেদের মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশি হওয়ার ফলে মোট জনসংখ্যায় নারীর আধিক্য দেখা যায়। বাংলাদেশে লিঙ্গনির্দিষ্ট গর্ভপাত ধর্তব্যের মধ্যে না হলেও, খাদ্য, পুষ্টি, চিকিৎসা পরিষেবা ও পরিচর্যার ক্ষেত্রে বৈষম্য থাকায় পুরুষের আধিক্য (১০৬:১০০) রয়েছে। আপনাদের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা (!) অনুযায়ী এখানে প্রায় ৩০ লক্ষ পুরুষ অবিবাহিত থেকে যাবে। তাদের জন্য সমাধান কি?
# যুক্তরাষ্ট্রের সমকামী পুরুষদের হিসাবের পাশে সমকামী নারীর হিসাবকে কেনো গোপন রাখা হলো?
# পাশ্চাত্যে যেমন অনেক পুরুষ বিবাহের বাইরে সম্পর্ক বজায় রাখে, অনেক নারীও নিশ্চয়ই রাখে। এই প্রসঙ্গ কতটা প্রাসঙ্গিক?

২। পুরুষদের একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও নারীদের নেই কেন?
জাকির নায়েকের কাছ থেকে শুনতে ইউটিউবে যান।
জাকির নায়েক: তিন

সুরা নিসায় (৪:২২-২৪) এমন নারীদের তালিকা দেয়া আছে যাদের মুসলমান পুরুষ বিয়ে করতে পারে না। সেখানে বিবাহিত নারীদের কথাও বলা আছে। অর্থ্যাৎ, বিবাহিত নারীদের বিয়ে করা মুসলমান পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ। নারীদের বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার জন্য কারণ হিসাবে জাকির নায়েকরা যেসব যুক্তি হাজির করেছেন সেগুলো হচ্ছেঃ

১) “একজন পুরুষ যদি একাধিক বিয়ে করে তাহলে সহজেই তার সন্তানের পরিচয় পাওয়া যায়। অর্থ্যাৎ, আলাদাভাবে সেই সন্তানের পিতা-মাতা সনাক্ত করা সম্ভব। কিন্তু যদি একজন নারী যদি একাধিক বিয়ে করে তাহলে জাত সন্তানের পিতার পরিচয় নিয়ে সংশয় হতে পারে। ইসলামে মাতা-পিতা উভয়েরই সণাক্তকরণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, যে সন্তান তার মাতা-পিতা এবং বিশেষত পিতার পরিচয় জানে না তারা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। জীবনের প্রতি পদক্ষেপেই সন্তানের তার পিতার নামের প্রয়োজন হবে। সেক্ষেত্রে সেই সন্তানের পিতার নাম কি একাধিক হবে? যদিও আমরা জানি যে, বর্তমানে বিজ্ঞান যথেষ্টই উন্নতি সাধন করেছে এবং আজকাল নিভূলভাবে পিতা-মাতার সণাক্তকরন সম্ভব। সেক্ষেত্রে হয়তো বিষয়টি বর্তমানের জন্য প্রযোজ্য নয়। কিন্তু এই প্রযুক্তি এই তো সেদিনের, আর ইসলাম সবসময়ের ধর্ম- কিছুদিন আগেও এতা সনাক্ত করা সম্ভব ছিল না।”

২) “প্রকৃতিগতভাবেই বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে পুরুষেরা বেশি আগ্রহী। পুরুষ স্বভাবতই বহুগামী। একইকারনে, একজন পুরুষ একের অধিক স্ত্রীর প্রয়োজন পূরণে সক্ষম। কিন্তু একজন নারী সাধারনত এই সক্ষমতার অধিকারী নয়”।

৩) “আলাদা আলাদা পুরুষের প্রয়োজন পূরণ করতে গিয়ে একজন নারী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে। শারীরিক প্রয়োজন পূরণের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। শারীরিক প্রয়োজন মেটানোর তাগিদ নারীর চেয়ে পুরুষের বেশি”।

৪) “যদি নারীর একাধিক স্বামী থাকে তবে দেখা যাবে, একই সময়ে তাকে একাধিক পুরুষের প্রয়োজন পূরণ করতে হতে পারে। আর এভাবে যৌনবাহিত বিভিন্ন রোগের ছড়িয়ে পড়ার সম্ভবণা অত্যধিক। কিন্তু বিপরীতক্রমে, একজন পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকার ক্ষেত্রে এই সমস্যার উদ্ভব হয় না”।

জাকির নায়েকদের করা উপরের যুক্তিগুলো একাধারে মিথ্যাচার ও ভুলে ভরপুর, অশ্লীল, উদ্ভট এবং বিকৃত মস্তিস্কজাত। সেগুলো নিয়ে ধরে ধরে কথা বলার আগে- মানব ইতিহাসের দিকে একটু দৃষ্টি দেই। আমরা জানি যে- একসময় মানুষের সমাজব্যবস্থা ছিল মাতৃতান্ত্রিক এবং তখন নারীদের বহুগামিতা সামাজিকভাবে সমর্থনযোগ্য ছিল। সে সময়ে সন্তানেরা কেবল মায়ের পরিচয়েই বেড়ে উঠতো। বলা হয়ে থাকে- দুনিয়ার প্রথম ডিফাইনড সম্পর্ক হচ্ছে “মা”। আজকের যুগেও তিব্বত- নেপাল সহ অনেক জায়গাতেই নারীর বহুবিবাহের চল আছে। নীচের এই ভিডিওতে নেপালের এমনই একটি পরিবারকে দেখা যাচ্ছে।
নারীর বহুবিবাহ: নেপাল

এবারে জাকির নায়েকদের করা (কু)যুক্তিগুলো একে একে দেখা যাক:
১) নারীর একাধিক স্বামী থাকলে, সন্তানের বাবাকে নির্দিষ্ট করণ আজ সম্ভব। সবসময়ের ধর্ম বলে যে দাবী সেটা খাটে না কারণ- কোন নিয়ম-কানুনই সবসময়ের জন্য একই থাকতে পারে না, যেহেতু মানুষ-মানুষের সমাজ- তার জানা বুঝা- আহরিত জ্ঞান, বিজ্ঞান-প্রযুক্ত সবই পরিবর্তনশীল। আর, বাবা কে না জানলে সন্তান খুব কষ্টে থাকে – এটাও যে মিথ্যা সেটা উপরের ভিডিওতে নেপালের সন্তানদের দেখেই বুঝতে পারছেন। জাকির নায়েক সোসাল সাইকোলজির এই দিকটা বেমালুম চেপে গেছেন । আমাদের এই সমাজে কয়েক জন বাবা থাকাটাকে আমরা “খারাপ” বলি বলেই সন্তান নির্দিষ্ট বাবার পরিচয়ের অভাবে মানসিকভাবে সমস্যায় ভোগে- কিন্তু বুঝতে হবে সেটা এই সমাজই সন্তানকে অমন করতে বাধ্য করে। যে সমাজে কোন সন্তানের একাধিক বাবা থাকাটা খুব স্বাভাবিক, সেখানে সন্তান একাধিক বাবা দেখেই অভ্যস্ত এবং এটাতে সে মানসিকভাবে কোন সমস্যায় না ভুগারই কথা।

২। পুরুষ স্বভাবতই বহুগামী – কথাটাই আপত্তিকর। পুরুষরা কি সারাক্ষণ বহুনারীতে উপগত হইবার চিন্তায় ব্যস্ত থাকে? আর যদি থাকেই , তাহলে নিজের চারটা স্ত্রী থাকলেও তারা ৫ম, ৬ষ্ঠ কোন নারির প্রতি আকর্ষিত হতে পারে?

৩। মানসিক ও বায়োলজিকাল কারনে নারী বহু স্বামীর সাথে ঘর করতে পারে না – এটাও নেপালের ভিডিও দেখে বুঝবেন যে মিথ্যা । শিডুল মেনে সব কয়জন স্বামীর সাথেই সুখে দাম্পত্য করতে দেখা যাচ্ছে নেপালী বউদের ।

৪। বহু স্বামী থাকলে যৌন রোগের সম্ভাবনা আছে, বহু স্ত্রী থাকলে নাই- এমন কথা একজন মূর্খের পক্ষেই বলা সম্ভব। জাকির নায়েকদের মুখ থেকে এই ধরনের “জেন্ডার বেসড” রোগের নাম শুনতে পারলে ভালো হতো। আর, রোগ ছড়ানোর ব্যাপারে- নারীর বহুগামিতা নয়, একগামি পুরুষ থেকে নারীতে বা নারী থেকে পুরুষে যৌনবাহিত রোগ ছড়াতে পারে। ফলে- এক পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকলে কোন একজনের যৌনবাহিত রোগ হলে সেটা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে- সেক্ষেত্রে রোগের বাহক হিসাবে স্বামী ব্যবহৃত হবে, অপরদিকে এক নারীর একাধিক স্বামী থাকলে- কারো কোন যৌনবাহিত রোগ হলে- ঐ নারী বাহক হিসাবে কাজ করবে।

৩। নারীদের বোরকার আড়ালে রেখে অবমাননা করা হয় কেন?
এবারেও জাকির নায়েকের বক্তৃতা শুনে ও দেখে আসুন।
জাকির নায়েক: চার

জাকির নায়েকরা এই প্রশ্নের জবাবের শুরুতেই – আগের সমাজগুলোতে নারীর অবস্থা কেমন ছিল সে সম্পর্কে একটা লম্বা ফিরিস্তি দেয়। ব্যবিলীয়নীয় যুগে, গ্রীক সভ্যতায়, রোমান সভ্যতায়, মিশরীয় সভ্যতায় এবং ইসলাম পূর্ব আরবে নারীদের খুব খারাপ অবস্থা ছিল- নারীদের জ্যান্ত পুড়ানো হতো- মেরে ফেলা হতো, নগ্নতা – পতিতাবৃত্তি খুব সাধারণ ছিল, নারীরা সব ধরণের অধিকার ও সুবিধা বঞ্চিত ছিল.. ইত্যাদি। এমন ঢালাও আলাপ যে প্রলাপমাত্র তা বলাই বাহুল্য, ইতিহাস নিয়ে যাদের নাড়াচাড়া আছে- তারা এটা জানে। যাহোক, জাকির নায়েকদের আলোচনায় ফিরে যাই। তাদের এই ফিরিস্তি হাজির করার উদ্দেশ্য ভালোই বুঝা যায়। তারা এই ফিরিস্তি দেয়ার মাধ্যমে এটাই প্রতিষ্ঠিত করতে চায় যে- ইসলামই প্রথম নারীদের তাদের সুষম মর্যাদায় অধিষ্টিত করেছে এবং এই মর্যাদা যেন বলবৎ থাকে তার ব্যবস্থাও ইসলাম করেছে, অর্থাৎ ইসলাম যেসমস্ত ব্যবস্থা নিয়েছে তা এই মর্যাদা বলবৎ রাখার জন্য। কি সেই ব্যবস্থা? নারীদের হিজাব।

কোরআনে বলা হয়েছে: “মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন দৃষ্টি নত রাখে এবং যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া তারা যেন সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, তারা যেন মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে। তারা যেন স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাদী, যৌণকামনামুক্ত পুরুষ বা বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতিত কারও কাছে সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। গোপন সৌন্দর্য প্রকাশের জন্য তারা যেন জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগন, তোমরা আল্লাহর সামনে তওবা কর যেন সফলকাম হতে পার।” [সুরা আন-নূর (২৪:৩১)]

হিজাবের অত্যাবশ্যকীয়তা নিয়ে কোরআনে বলা হয়েছে:
“হে নবী, আপনি আপনার পত্নীগণ, কন্যাগণ, ও মুমিন স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের অংশ নিজেদের ওপর টেনে নেয়, এতে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তারা উত্যক্ত হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালূ।” [সুরা আল-আহযাব (৩৩:৫৯)]।

নানা কথার ভিতর দিয়ে আসলে এই হিজাবের পেছনে একটি যুক্তিই পেলাম। তা হলো মোদ্দা কথায়- নারীরা হিজাব না পরলে- পুরুষদের কাম জাগ্রত হতে পারে। জাকির নায়েকরা একটা চমৎকার(!) উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা বুঝিয়ে দেয়: “দুজন যমজ বোনের কথা ধরা যাক। তারা দুজনই সমান সুন্দরী। রাস্তায় হেটে যাবার সময় তাদের একজন ইসলামী হিজাব পরিধান করেছে অর্থ্যাৎ সম্পূর্ণ দেহ কাপড়ে আবৃত শুধু মুখ ও হাতের কব্জি বাদে। এবং অন্যজন পাশ্চাত্যের মিনি স্কাট ও শটস পরেছে। রাস্তার পাশে কিছু বখাটে ছেলে বসে আছে। আপনার কী মনে হয়, তারা এই দুই বোনের মধ্যে কাকে উত্যক্ত করবে? যে ইসলামী হিজাব পরিধান করেছে তাকে নাকি যে পাশ্চাত্যের পোশাক করেছে তাকে। নিঃসন্দেহে যে পাশ্চাত্যের পোশাক পরেছে তাকে। আসলে এই ধরনের পোশাক বিপরীত লিঙ্গকে আগ্রাসী হবার পরোক্ষ আমণ্ত্রণ জানায়”।

বখাটে ছেলেরা তো হিজাব পরিরহিত একজনকেও উত্যক্ত করতে পারে, আমার প্রশ্ন হলো- ঐ জায়গায় জাকির নায়েক থাকলে কাকে করতো? কোনজনকে দেখে উত্যক্ত করতেন বা তার কামের উদ্রেক ঘটতো? যাহোক, নায়েকদের কথা আরেকটু শুনি। পাশ্চাত্যের তথা যুক্তরাষ্ট্রের নারীদের নগ্নতা জাকির নায়েকদের মোক্ষম যুক্তি, সর্বশেষ অস্ত্র। জাকির নায়েকরা যুক্তরাষ্ট্রকে পৃথিবীর সর্বাধিক উন্নত দেশ হিসাবে অভিহিত করে জানান দেয় যে- যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণের সংখ্যাও সর্বাধিক। শেষে চমৎকার একটা সমাধানও দেয়া হলো, “কোন নারীকে দেখামাত্র পুরুষ তার দৃষ্টি নত করবে, নারীরা ইসলামী হিজাব পরিধান করবে এবং এরপরও যদি কোন ব্যক্তি ধর্ষণ করে তবে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে”। জাকির নায়েকরা নিশ্চিত, এতে করেই যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণ একদম না-ই হয়ে যাবে। যেনবা, যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশগুলোতে ধর্ষণের মূল কারণ নারীদের বেপর্দা থাকা বা হিজাব না পরা! আজব!!

যুক্তরাষ্ট্রের গল্প শোনানো হচ্ছে- কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য বা আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে নারীর সেক্সুয়াল এবিউজমেন্টের হার কি কম? এইসব অঞ্চলে- বেশীরভাগ ঘটনাই প্রকাশ পায় না- আড়ালে থেকে যায়। সেদিন একটি রিপোর্টে পড়ছিলাম- শিশুকন্যার সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্ট নিয়ে- আমাদের মতো দেশগুলোতে ৬০ ভাগেরও বেশী শিশুকন্যা সেক্সুয়ালি কোন না কোন ভাবে হ্যারাজড হয় (শিশুকন্যা বলতে ১২/১৪ বছর বয়সের পূর্বে বাচ্চাদের বুঝিয়েছে)। আরো মজার কাহিনী হচ্ছে- এদের ৯০ ভাগেরও বেশী হ্যারাজড হয় না কি ফ্যামিলি মেম্বারদের দ্বারা- কাজিন, চাচা-মামা-দাদা কেউ সেই লিস্ট থেকে বাদ নেই! ঐ বাচ্চাগুলোকে বোরখা দিয়ে ঢেকে রাখলেই এসব বন্ধ হবে?

আর, উত্যক্ত করার যে উদাহরণটা জাকির নায়েক দিয়েছে- সেটা তার সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলকে তুল্যজ্ঞান করেই দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, উত্যক্ত করাটা সংস্কৃতি ভেদে ভিন্ন হবে। যে সমাজে মিনি স্কার্ট ও শর্টস একটি স্বাভাবিক পোষাক হিসেবে ব্যবহৃত ও স্বীকৃত কিন্তু হিজাব নয়, সেখানে হিজাবধারীকে উত্যক্ত করা হতে পারে। আর যে সমাজে হিজাব স্বাভাবিক, শর্টস ও মিনি অব্যবহৃত সেখানে উল্টো ঘটনা ঘটবে।

নীচে দক্ষিণ আফ্রিকার জুলু আদিবাসীদের নাচের একটা ভিডিও দেয়া হলো, এই লিংকে (জুলু ও ইথিওপিয়া) আর কিছু ভিডিও আছে,- দেখে আমাকে বলেন- এই সব ন্যাংটো-আধা ন্যাংটো ট্রাইবাল নারীদের বুক পাছা দেখে জাকির নায়েকদের যেমন অনুভূতি হয়- তা কি ওদের পুরুষদেরও হয়?
জাকির নায়েক: চার

শুধু একটা তথ্য দিতে পারি- এইসব ন্যাংটো মেয়েদের দিনে রাতে দেখেও ওদের পুরুষেরা উত্যক্ত করার কথা কল্পনাও করতে পারেনা, এরা হয়তো- অন্য সমাজের পুরুষদের (যারা নিজেদের সমাজে লজ্জা নিবারনের পোষাকে অভ্যস্ত) হাতে রেপড হতে পারে- কিন্তু এখানকার পুরুষদের হাতে তাদের নারীদের রেপ করার তেমন কোন নজির নেই।

পরিশিষ্ট:এক
এসব প্রশ্নের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আছে, কিন্তু সেগুলো নিয়ে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন আলোচনা পেলাম না। প্রশ্নগুলো এখানে উল্লেখ করছি। জাকির নায়েক বা অন্য কোন মোল্লাকে এসবের জবাব দেয়ার চেস্টা করতে দেখলে- অনুগ্রহ করে একটু জানান দিয়েন।
১) কোরআনে যেহেতু একজন পুরুষের স্থলে দু’জন নারী সাক্ষীর কথা বলা আছে কেন? এর মধ্য দিয়ে দুইজন পুরুষকে একজন নারীর সমকক্ষ হিসাবে কি গণ্য করা হলো না?
২) কোরআনে স্ত্রীকে বেধরক প্রহারের অধিকার স্বামীকে দেয়া হয়েছে। এটা কি অমানবিক নয়? একই অধিকার স্ত্রীকে দেয়া হয়নি কেন? এটা কি সম অধিকার বা ন্যায়পরায়নতা প্রকাশ করে?
৩) কোরআনে নারীদের মাসিক রজঃস্রাবকে অশুচি হিসাবে গণ্য করা হয়েছে কেন? এসময়ে নারী কেন ধর্মীয় কাজকর্মের (নামাজ-রোযা প্রভৃতি) পর্যন্ত অধিকার পাবে না?
৪) কোরআনে স্ত্রীকে শষ্যক্ষেত্রের সাথে তুলনা করে হেয় করা হয়নি কি?
৫) কোরআনে যেহেতু নারীকে পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তি দেয়া হয়েছে। কেন? এর মধ্য দিয়ে কি প্রমাণ হয় না যে নারী-পুরুষকে সমান অধিকার দেয়া হয়নি?
৬) কোরআনে অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাদের বিয়ে করাকে নিষিদ্ধ করা হয় নি কেন?
৭) কোরআনে অমানবিক হিলা বিয়ের কথা লিখা আছে কেন?
৮) কোরআনে যুদ্ধবন্দী/ক্রীতদাসীদের সাথে সেক্স করার কথা লিখা আছে- এটা অমানবিক নয় কি? (এ প্রসঙ্গে মাহমুদ রহমানের এই পোস্টও দেখেতে পারেন।)

পরিশিষ্ট:দুই
পরিশেষে, প্রাসঙ্গিক কিছু কোরআনের আয়াত উল্লেখ করাও হচ্ছে:

তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। আর নিজেদের জন্য আগামী দিনের ব্যবস্খা কর এবং আল্লাহ্কে ভয় করতে থাক। আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও। ২-২২৩

আর তালাকপ্রাপ্তা নারী নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন হায়েয পর্যন্ত। আর যদি সে আল্লাহর প্রতি এবং আখেরাত দিবসের উপর ঈমানদার হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহ্ যা তার জরায়ুতে সৃষ্টি করেছেন তা লুকিয়ে রাখা জায়েজ নয়। আর যদি সদ্ভাব রেখে চলতে চায়, তাহলে তাদেরকে ফিরিয়ে নেবার অধিকার তাদের স্বামীরা সংরক্ষণ করে। আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমনি ভাবে স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের উপর নিয়ম অনুযায়ী। আর নারীরদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। আর আল্লাহ্ হচ্ছে পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ। ২-২২৮

আল্লাহ্ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেন: একজন পুরুষের অংশ দু’জন নারীর অংশের সমান। অত:পর যদি শুধু নারীই হয় দু-এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি মৃতের পুত্র থাকে। যদি পুত্র না থাকে এবং পিতা-মাতাই ওয়ারিস হয়, তবে মাতা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। অত:পর যদি মৃতের কয়েকজন ভাই থাকে, তবে তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ ওছিয়্যেতর পর, যা করে মরেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা আল্লাহ্ কর্তৃক নির্ধারিত অংশ নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, রহস্যবিদ। ৪-১১

হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ঋনের আদান-প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ করে নাও এবং তোমাদের মধ্যে কোন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে তা লিখে দেবে; লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না। আল্লাহ্ তাকে যেমন শিক্ষা দিয়েছেন, তার উচিত তা লিখে দেয়া। এবং ঋন গ্রহীতা যেন লেখার বিষয় বলে দেয় এবং সে যেন স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহ্কে ভয় করে এবং লেখার মধ্যে বিন্দুমাত্রও বেশ কম না করে। অত:পর ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ হয় কিংবা দূর্বল হয় অথবা নিজে লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তবে তার অভিভাবক ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখাবে। দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন যদি ভুলে যায়, তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যখন ডাকা হয়, তখন সাক্ষীদের অস্বীকার করা উচিত নয়। তোমরা এটা লিখতে অলসতা করোনা, তা ছোট হোক কিংবা বড়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এ লিপিবদ্ধ করণ আল্লাহ্র কাছে সুবিচারকে অধিক কায়েম রাখে, সাক্ষ্যকে অধিক সুসংহত রাখে এবং তোমাদের সন্দেহে পতিত না হওয়ার পক্ষে অধিক উপযুক্ত। কিন্তু যদি কারবার নগদ হয়, পরপর হাতে হাতে আদান-প্রদান কর, তবে তা না লিখলে তোমাদের প্রতি কোন অভিযোগ নেই। তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সাক্ষী রাখ। কোন লেখক ও সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করো না। যদি তোমরা এরূপ কর, তবে তা তোমাদের পক্ষে পাপের বিষয়। আল্লাহ্কে ভয় কর তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। আল্লাহ্ সব কিছু জানেন। ২-২৮২

তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। অত:পর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো আল্লাহ্ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়। ২-২৩০

তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের ঋতুবর্তী হওয়ার আশা নেই, তাদের ব্যাপারে সন্দেহ হলে তাদের ইদ্দত হবে তিন মাস। আর যারা এখনও ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি, তাদেরও অনুরূপ ইদ্দতকাল হবে। গর্ভবর্তী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তানপ্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ্ তার কাজ সহজ করে দেন। ৬৫-৪

পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ্ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ্ সবার উপর শ্রেষ্ঠ। ৪-৩৪

সকল সধবা নারীদের তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে, কিন্তু তোমাদের স্বত্বাধীন যেসব দাসী রয়েছে তাদের হারাম করা হয়নি। এ হল তোমাদের জন্য আল্লাহর বিধান। এদের ছাড়া অন্য সব নারীকে তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে এ শর্তে যে, তোমরা তাদের কামনা করবে অর্থের বিনিময়ে বিয়ে করার জন্য, ব্যভিচারের জন্য নয়। বিয়ের মাধ্যমে যে নারীদের তোমরা সম্ভোগ করেছ তাদের দিয়ে দিবে তাদের নির্ধারিত মহর। আর তোমাদের কোন গুনাহ হবে না যদি মহর নির্ধারণের পর তোমরা কোন বিষয়ে পরষ্পর সম্মত হও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, হেকমতওয়ালা। ৪-২৪

ড. জাকির নায়েক সম্পর্কে কিছু নাস্তিক ব্লগার বিরূপ মন্তব্য করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী- তারা ড. জাকির নায়েক - এর চেয়েও বড় কিছু ! এবং তাদের কথা- ধর্ম সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে ডিগ্রী লাগে নাকি ?

এই রকম থার্ড ক্লাস নাস্তিকদের যম হলো ড. জাকির নায়েক... নিচে তার বায়োগ্রাফী এবং ওয়েবসাইট লিঙ্ক তুলে দিলাম :

DR. ZAKIR NAIK - PRESIDENT, IRF

A medical doctor by professional training, Dr. Zakir Naik is renowed as a dynamic international orator on Islam and Comparative Religion. Dr. Zakir Naik clarifies Islamic viewpoints and clears misconceptions about Islam, using the Qur'an, authentic Hadith and other religious Scriptures as a basis, in conjunction with reason, logic and scientific facts. He is 43 years old.

Dr. Zakir is popular for his critical analysis and convincing answers to challenging questions posed by audiences after his public talks. In the last 6 years (by the year 2002), Dr. Zakir Naik has delivered more than 1000 public talks in the U.S.A., Canada, U.K., Saudi Arabia, U.A.E., Kuwait, Qatar, Bahrain, Oman, South Africa, Mauritius, Australia, Malaysia, Singapore, Hongkong, Thailand, Guyana (South America) and many other countries, in addition to numerous public talks in India.

He has successfully participated in several symposia and dialogues with prominent personalities of other faiths. His public dialogue with Dr. William Campbell (of USA), on the topic, “The Qur’an and the Bible in the light of Science” held in city of Chicago, U.S.A., on April 1, 2000 was a resounding success.

Sheikh Ahmed Deedat, the world famous orator on Islam and Comparative Religion, who had called Dr. Zakir, "Deedat plus" in 1994, presented a plaque in May 2000 awarded to Dr. Zakir Abdul-Karim Naik for his achievement in the field of Da’wah and the study of Comparative Religion with the engraving "Son what you have done in 4 years had taken me 40 years to accomplish, Alhamdullilah.”

Dr. Zakir Naik appears regularly on many international T.V. Channels in more than 100 countries of the world. He is regularly invited for T.V. and Radio interviews. More than a hundred of his talks, dialogues, debates and symposia are available on VCDs and DVDs. He has authored books on Islam and Comparative Religion.







BIO-DATA

DR. ZAKIR ABDUL-KARIM NAIK

ISLAMIC RESEARCH FOUNDATION
56/58 Tandel Street (North), Dongri, Mumbai - 400 009 (India)
Tel : (0091-22) 23736875 (8 lines) Fax : (0091-22) 23730689
e-mail: zakir@irf.net website : http://www.irf.net

BIRTH DATE & PLACE
:

October 18, 1965 in Mumbai, India






OCCUPATION
:

Islamic Da'wah (Propagation of Islam)
1. President, Islamic Research Foundation, Mumbai
2. Chairman, I.R.F. Educational Trust, Mumbai
3. President, Islamic Dimensions, Mumbai






EDUCATED AT
:

1. St. Peter's High School (I.C.S.E.), Mumbai
2. Kishinchand Chellaram College, Mumbai
3. Topiwala National Medical College, Nair Hospital, Mumbai






UNIVERSITY DEGREE
:

M.B.B.S. (Bachelor of Medicine and Bachelor of Surgery), University of Mumbai






PUBLIC LECTURES
:

Hundreds of Public Lectures (usually followed by Open Question and Answer Sessions) given internationally, of which more than a 100 are available on VCDs and DVDs






DA'WAH TRAINING PROGRAMMES
:

Conducted several Da'wah Training Programmes including International Da'wah Training Programme for training Muslims to effectively convey the message of Islam






FIELDS OF INTEREST
:

* Studies in Comparative Religion * Medicine * Humanitarian, Social, Moral, Educational and Economic Welfare activities






DA'WAH LECTURE TOURS ABROAD TO
:

U.S.A., Canada, Britain, Australia, Saudi Arabia, Kuwait, Bahrain, Qatar, U.A.E., South Africa, Botswana, Singapore, Guyana, Malaysia, Hong Kong, Thailand and Other Countries






BOOKS AUTHORED BY DR. ZAKIR NAIK
:

1. REPLIES TO THE MOST COMMON QUESTIONS ASKED BY NON-MUSLIMS
2. QUR'ÂN AND MODERN SCIENCE - Compatible Or Incompatible
3. CONCEPT OF GOD IN MAJOR RELIGIONS
4. ISLAM AND TERRORISM
5. WOMEN'S RIGHTS IN ISLAM - Protected Or Subjugated?
6. AL-QUR'ÂN - Should it be Read with Understanding?
7. IS THE QUR'ÂN GOD'S WORD?

অলৌকিক ক্ষমতার কথা

Posted on ১১:৩৮ AM
ডা: জাকির নাইক ---অলৌকিক আলোকবর্তিকা হাতে এক উত্তরাধিকারীর কথা

পেশায় তিনি একজন ডাক্তার। চেহারা এমন বলার মত কিছু ছিল না অথচ আমার মতে এই লোকটিই সেই লোক যিনি দায়িত্ব পেয়েছেন সেই অলৌকিক আলোকবর্তিকাটি বহন করার। একটু খুলেই বলি---

আমি ওয়াজ মাহফিলের খুব ভক্ত। একজন মুসলিম হিসাবে আল্লাহ রাসূলের কথা শুনতে ভালই লাগে কতটা মেনে চলি সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। তবে শুনতে বরাবরই আগ্রহী। ওয়াজ মাহফিল ভাল লাগার আর একটা কারণ হচ্ছে এর সুর। যে কোন শ্র“তিমধুর সুরই আমাকে আকৃষ্ট করে। সে জন্য বাজনাসহ গান কে ইসলামে অপছন্দনীয় বলা হলেও গান বেশিই শোনা হয়।

ওয়াজ মাহফিলের কথাটা এজন্যই আনলাম যে ওয়াজে আগে হুজুর রা প্রায়ই বলতেন যে আলেম ওলামাদের সাথে সবসময় ভাল ব্যবহার করবেন কারণ “আলেম ওলামারা হচ্ছেন নবী রাসূলদের উত্তরাধিকারী।” কথাটা এভাবেই মনে গেঁথে ছিল এতদিন। আমি যতদূর জানি আলেম শব্দটি এসেছে এলেম শব্দ হতে যার অর্থ “জ্ঞান” সেই হিসাবে আলেম মানে জ্ঞানী। তার মানে হচ্ছে জ্ঞানীরাই হচ্ছে নবীদের উত্তরাধিকারী।[রাসূল (স) বলেন-ধর্ম জ্ঞানে জ্ঞানী গন নবীদের উত্তরাধিকারী---আবু দাউদ,তিরমিযি] খাঁটি কথা। আমরা জানি প্রত্যেক নবী রাসূলদের একটা জিনিস ছিল সেটা হল মু’জিযা অর্থাৎ অলৌকিক ক্ষমতা। যে ক্ষমতা সমসাময়িক সকল শক্তিকে পরাস্ত করতে সক্ষম। উদাহরণস্বরুপ - মুসা (আ) এর লাঠি, ইসা আ এর মৃত মানুষকে জীবিত করা ইত্যাদি। শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ স এর অনেক মুজিযা ছিল তবে তার সর্বশ্রেষ্ট মুজিযা হল আল কুরআন। আল কুরআন কেন সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিযা তা জাকির নাইকের লেকচার গুলো শুনলেই বোঝা যাবে।

মূল আলোচনায় আসি। জ্ঞানীরা নবী রাসূলদের উত্তরাধীকারী তার মানে জ্ঞানীদেরও অলৌকিক ক্ষমতা থাকা উচিত। যুক্তি তো তাই বলে। ইসলাম এ বিষয়েও বলেছে। যেহেতু জ্ঞানীরা নবী রাসূলদের উত্তরাধিকারী তবুও তারা মর্যাদায় কখনও তাদের সমান নন। তাই তাদেরকে এমন কোন অলৌকিক ক্ষমতা দেয়া হয় না যা সমসাময়িক সব শক্তিকে পরাস্ত করতে সক্ষম। তবে তাদের একটি জিনিস দেয়া হয় সেটাকে বলে কারামত অর্থাৎ তাক লাগানো বা চমক লাগানো এমন কিছু । তো আমি ওয়াজে যখন এটা শুনলাম তখন চিন্তা করলাম আলেম ওলামারা যদি নবী রাসূলদের উত্তরাধীকারী হয়েই থাকে তাহলে তাদের কারামত অর্থাৎ তাক লাগানো বা চমক লাগানো বস্তুটি কোথায়?

আমাদের দেশে অনেক বড় বড় ওলামা ছিলেন এবং আছেন কিন্তু বেশিরভাগের মধ্যেই সত্যিকার কারামত অর্থাৎ চমক লাগানো ক্ষমতাটি নেই । তবে এ দিক থেকে তাদের এলেম বা জ্ঞান কে খাটো করে দেখার উপায় নেই । তারাও জ্ঞানী । কিন্তু আলোচনার বিষয় হচ্ছে নবী রাসূলদের উত্তরাধিকারী নিয়ে যার একটি বিশেষ ক্ষমতা বা কারামত থাকবে। গত ১ থেকে ১.৫ বছর জাকির নাইক এর লেকচার শোনার পর আমি ব্যক্তিগতভাবে সুনিশ্চিত যে জাকির নাইক-ই হচ্ছেন সেই লোক যিনি সেই উত্তরাধিকারী।

যেহেতু তিনি নবী রাসূলদের উত্তরাধিকারী সেহেতু তার একটি কারামত বা বিশেষ ক্ষমতা থাকা উচিত। যারা তার লেকচার শুনেছেন তারা একবাক্যে স্বীকার করবেন যে তার সেই বিশেষ ক্ষমতা আছে । সেটি হচ্ছে তার স্মৃতিশক্তি। অবিশ্বাস্য স্মৃতিশক্তির অধিকারী ডা. জাকির নাইক। তার স্মৃতিশক্তি কতটা অবিশ্বাস্য তা তার বিভিন্ন লেকচার গুলো দেখলেই বোঝা যাবে। আমি এখানে সংক্ষেপে তার স্মৃতিশক্তির বর্ণনা করব ।

এটা বলতে কোন বাধা নেই জাকির নাইক- ই সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি পৃথিবীর সব প্রধান ধর্মগ্রন্থ গুলো পুরোপুরি মুখস্থ পারেন। শুধু যে মুখস্থ পারেন তাই নয় তিনি যেকোন সময় সেগুলোর পৃষ্ঠা কিংবা লাইন বা প্যারা বা অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উদ্ধৃত(Quote) করতে পারেন। এটা ছাড়াও তিনি যেসব বই পড়েছেন সেগুলো উদ্ধৃত করার প্রয়োজন হলে সেগুলোর কোন পৃষ্ঠা থেকে বলছেন তাও উদ্ধৃত করেন। এ এক অবিশ্বাস্য ক্ষমতা। এই অবিশ্বাস্য ক্ষমতাকে যুক্তিবাদীরা প্রকৃতি প্রদত্ত বলবে হয়ত। কিন্তু বিশ্বাসীদের কাছে এই ক্ষমতা অলৌকিক মনে হতে বাধ্য। আল্লাহ অনুগ্রহ করে কাউকে এই ক্ষমতা না দান না করলে এটা অসম্ভব ।

আল্লাহ যুগে যুগে তার বাণী পেীঁছে দেয়ার জন্য কিছু কিছু লোককে নির্বাচন করেন। এঁদের নবী - রাসূল বা বার্তাবাহক বলা হয়। সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সঃ) কে শেষ নবী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহ এই বার্র্তাবাহক প্রেরণ বন্ধ করেন। তার কারন হচ্ছে মানুষের কাছে তার যতটা বাণী পেীঁছানো দরকার ছিল তা সম্পূর্ণ হয়েছে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) দ্বারা। শেষ নবীর পরবর্তী যুগের মানুষের জন্য দরকার সেই সব আলেম বা জ্ঞানীদের যারা আল্লাহ এবং নবীর বাণী যারা জানে না তাদের কাছে পৌঁছে দেবেন এবং যারা অবিশ্বাস করে তাদের কাছে যুক্তিপ্রমাণ সহ উপস্থাপন করবেন।

জাকির নাইক সেই কাজটিই করে যাচ্ছেন.. তার যে অবিশ্বাস্য স্মৃতিশক্তিই আছে তাই নয় তিনি এমন নিরেট যুক্তি উপস্থাপন করেন যে তা না মেনে উপায় থাকে না ।
তিনি অনেক বিভিন্ন ধর্মের অনেক বড় বড় পন্ডিতদের সাথে বিতর্ক করেছেন , বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে সেই বিষয়ে বিতর্ক করেছেন.. এবং বিতর্কের ফলাফল কী হয়েছে তা আপনারা বিতর্ক গুলোর ভিড়িও দেখলেই বুঝতে পারবেন। এখন বাংলাদেশের ইসলামিক টিভির কল্যানে অনেকে এগুলো দেখেছে এবং জ্ঞানের অমিয় সুধা পান করে নিজেদের ধন্য করেছে..

তবে এখানে একটি কথা জাকির নাইকের বাংলায় ডাবিংকৃত লেকচারগুলো থেকে অনেক সময়ই তিনি যেটা বলতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট হয় না । সব ধরণের অনুবাদেই এ সমস্যাটি দেখা দেয়.. তাই আমার সাজেশান হল যারা ইংরেজী বুঝতে পারেন তারা peace tv তে তার ইংরেজী লেকচার গুলো দেখবেন।

আপনি মুসলমান,হিন্দু,খ্রিস্টান,নাস্তিক যাই হোন না কেন আপনার মনে জমে থাকা প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব তিনি দিতে পারবেন বলেই আমার বিশ্বাস। আমার কাছে মনে হয় হিন্দু ধর্ম বিষয়ে তার চেয়ে জ্ঞানী লোক হিন্দু পন্ডিতদের মধ্যেও নেই । এর কারন হল তিনি একবার ভারতের অন্যতম শীর্ষ হিন্দু পন্ডিত শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর এর সাথে বিতর্ক করেন । সেখানে রবিশঙ্কর বলেছেন তিনি জাকির নাইকের মত স্কলার নন!

তাকে যুক্তি দিয়ে হারান খুবই কঠিন। কারণ যে ধর্মের লোক তাকে প্রশ্ন করবে তাকে তিনি তার ধর্মগ্রন্থ দিয়েই উত্তর দিতে সক্ষম। আর যদি নাস্তিক হয় তাহলে যুক্তি দিয়ে তিনি উত্তর দেন । কারণ নাস্তিক রা সবকিছুতেই যুক্তি খুঁজে। তিনি যুক্তি দিয়েই প্রমাণ করেছেন মৃত্যুর পরে একটি জীবন আছে এবং যেখানে মানুষকে তার পৃথিবীর কাজকর্মের জবাবদিহি করতে হবে।
তাই আমি মনে করি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আস্তিক নাস্তিক সবারই তার লেকচার শোনা উচিত..

সত্যি ভূতের গল্প ,আসলেই।

Posted on ১১:০৮ AM

ঘটনাটা আমার এক বড় ভাইয়ের মুখ থেকে শুনা,
সত্যি বলতেছি এজন্যে যে ,কারণ আমি বিশ্বাস করি ,উনি একজন শক্ত মনের মানুষ।এবং উনি যা দেখেছেন ,তা ঠিক দেখেছেন।ঘটনাটা এরকম,

উনার এস,এস,সি পরীক্ষা শেষ হয়েছে ।পরীক্ষার পর ছুটিতে উনি উনার
মামাবাড়ি খুলনায় যাবেন।উনি সিলেট থেকে রওয়ানা দিয়ে রাত সাড়েনটায় খুলনা পৌচ্ছান।শহর উনার মামাবাড়ি যাওয়ার রাস্তায় যাওয়ার পথে প্রায় ১০ মিনিটের মত টিলার মাঝখান দিয়ে যেতে হ্য়।রাতে তিনি কোন রিকশা না পেয়ে একাই হেটে রওয়ানা হন,একটু জায়গা যাওয়ার পর উনি উনার একটু সামনে একজন বৃদ্ধ লোককে দেখতে পান।
সামনে একজন লোক দেখায় উনি ভাবেন যে উনার সাথে কথা বলে বলে উনার মামাবাড়ি পরযন্ত চলে যাবেন। তাই উনি উনার হাটার গতি বাড়িয়ে দিয়ে লোকটিকে ধরতে চান।কিন্তু লোকটিও ওর হাটার গতি বাড়িয়ে দেয়,এবং একটু পর রাস্তার একটি মোড় পার হয়ে যায়।

তখন তিনি ঐ মোড়ের কাছে এসে দেখেন যে, সামনে ঐ লোকটি নেই,এবং সামনে অনেকটা সরু রাস্তা যা একজন বৃদ্ধ লোকের পক্ষে এত তাড়াতাড়ি পেরোনো সম্ভব নয়।তাই উনি এদিক ওদিক তাকিয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখেন লোকটি উনার ঠিক পেছনে এবং উনার দিকে তাকিয়ে হাসতেছে।লোকটি কিছুটা ভাসমান অবস্হায় ছিল, আর চোখটা খুবই ভীতিকর ছিল।উনার পিছনে লোকটিকে এভাবে দেখে উনি অজ্ঞান হয়ে
ঐখানেই পড়ে যান।

কিছুক্ষন পর একদল লোক এ রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে উনাকে এভাব
পেয়ে উনার মামার বাড়ি পৌচ্ছে দেয়।

ভূত নিয়ে একটি সত্য ঘটনা…

Posted on ১১:০৪ AM
যারা ভূতে বিশ্বাস করেন না, বা করতে চান না তাদেরকে আজকে একটা সত্য ঘটনা শুনাব-

আমি সবসময় ঢাকা থেকে রাত্রে বাড়িতে যায়। কারন ছুটি পাই কম আবার চিন্তা করি রাত্রে চলে গেলে পরদিন সকালটা বাসা থেকেই শুরু করা যাবে। ছাত্র অবস্থায় ক্লাস শেষ করেই রওনা হয়ে যেতাম। এখনও অফিস শেষ করেই সোজা মহাখালী – তারপর ময়মনসিংহ – হালুয়াঘাট। মোটামুটি ছয়ঘন্টা।

একদিন ক্লাস শেষ করে বাড়ী রওনা হলাম। আমাদের বাজারে যেতে যেতে রাত ১২ টা বেজে গেল। বাজারে গিয়ে দেখি সুবাস।আমার বাল্য বন্ধু। আমাকে দেখেই বলল আমরা তো প্রতিদিন রাত্রে কদমতলী আড্ডা মারি, তুই খেয়ে চলে আসিস

বাজারেই আমার বাসা। বাসায় গিয়ে আম্মার সাথে কথা বলতে বলতে খাওয়া শেষ করলাম।১টার দিকে বাজারে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ভাবলাম সবাই হয়তো চলে গেছে। আমি দুইটা সিগারেট কিনে কদমতলী রওনা হলাম। বাজার থেকে কদমতলী সিকি কি.মি.।

তখন আষাঢ় মাস। আকাশে চাদও আছে। কিন্তু আষাঢ়ের মেঘ এবং চাদের আলো দু্ইটা মিলে একটা অদ্ভুদ আলো-আধারের খেলা চলছে- এই কালো অন্ধকার, আবার যেন ভরা পূর্ণিমা। একটা সিগারেট ধরিয়ে রাস্তা হাটছি। কিছুটা ভয়ও লাগছে। এমন রাতে একা একা হাটলে ভূত-প্রেতের কথা একটু বেশীই মনে পড়ে।

বামের ঘন জঙ্গল থেকে ঝি ঝি পোকার শব্দে একটা অদ্ভুদ সুর যেন সৃষ্টি হচ্ছে। যে সুরের তালে তালে নিজেকে নিয়ে খুব হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। মাঝে মাঝে গভীর জঙ্গল থেকে দু-একটি কাক বড্ড বেসুরো কন্ঠে কা কা করছে। মনে হচ্ছে কোন মাংসখেকো রাক্ষস যেন কলিজাটা ছিড়ে নিয়ে যাচ্ছে।

আমি কদমতলীর কাছাকাছি যে জায়গায় শশানঘাটটা ঠিক সে জায়গায় চলে আসলাম। এইখান থেকে আমাদের যে জায়গায় বসে আড্ডা দেওয়ার কথা সেই জায়গা টা স্পষ্ট দেখা যায়। আমি কাউকেই দেখতে পেলাম না। মনের ভিতর একটা ভয়ও জেগে উঠল। এই কারনে গভীর জঙ্গলের পাশ দেয়ে পিছনেও যেতে ইচ্ছে করছেনা। কারন এই জায়গার বামদিকে কংশ নদী, আর ডানদিকে খোলা মাঠ – যার ধরুন গা শিরশির করা অন্ধকার ভাবটা এইখানে নেই।

আমি সোজা কদমতলী গিয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে নদীর ঢেউ দেখছি। ভয়টা কাটানোর জন্য একটু জোড় করেই যেন অন্যমনস্ক হয়ে যেতে চাইলাম। মাঝে মাঝে কয়েকটা কলাগাছ নদী দিয়ে ভেসে যাচ্ছে। দূর থেকে মনে হচ্ছে কোন লাশ ভেসে যাচ্ছে। মৃত প্রাণীর গন্ধে বমি হওয়ার অবস্থা।

হঠাৎ……হঠাৎ………..একটি কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম। ইঁ..ইঁ..ইঁ..ইঁ..ইঁ..ইঁ..। কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। আমার কাছ থেকে হাত বিশেক দূরে ঠিক আমার বাম দিকে তাকিয়ে দেখি একটি ঘোমটা দেওয়া মহিলা বসে আছে। আর ঐ খান থেকেই কান্নার আওয়াজ আসছে। ভয়ে আমার আত্না চলে যাওয়ার যোগাড়। শরীর দিয়ে ঘাম পানির মত বের হচ্ছে। যেন আমি কোন ঝড়নার নিচে দাড়িয়ে আছি। ডাকব ডাকব ভেবেও না ডেকে সোজা বাসার দিকে রওনা হলাম।

বাসায় গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে শুয়ে পড়লাম। পরদিন সকালে আম্মাকে সব ঘটনা খুলে বললে আম্মা বলল সুবাস তো ময়মনসিংহ গিয়েছিল তিনদিন আগে, সেতো আসবে আরও পরে। আমিতো অবাক তাহলে সুবাসের চেহারা নিয়ে আমাকে কে বলেছিল কদমতলী যাওয়ার জন্য।

শেষে আম্মা যা বলেছিল তা ছিল এইরকম-”৮৮ সালের বন্যার সময় নৌকায় করে বরযাত্রী বউ নিয়ে যাওয়ার সময় কদমতলী নৌকা ডুবে যায়। সবাই তীরে উঠলেও কনে আর উঠতে পারিনি। সেই থেকে এখনও মাঝে মাঝে কনেকে কদমতলী তে কাদতে দেখা যায়। আরও অনেকেই দেখেছে।”

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...

English

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

রেডিও আমার

Ibrahim-any. Blogger দ্বারা পরিচালিত.